'অন্তর জ্বালা' ভালো না হলে নতুন কোন ছবি করবো না: জয়

বিনোদন প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- ঢাকাই সিনেমার মাস্টার মেকার খ্যাত নির্মাতা মালেক আফসারী পরিচালিত 'অন্তর জ্বালা' সিনেমাটি মুক্তি পাচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার। এদিন সারা দেশের ১৭০টি সিনেমা হলে মুক্তি পাবে সিনেমাটি।

ইতোমধ্যেই সিনেমাটি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে সিনেমা পাড়ায়। সামাাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সাড়া দেখা গেছে এই সিনেমায় প্রচার-প্রচরণায়। ‘অন্তর জ্বালা’ পরিচালিত এই ছবিতে অভিনয় করেছেন পরীমণি, জায়েদ খান এবং জয় চৌধুরী ও মৌমিতা মৌ।

সিনেমাটির মুক্তি সামনে রেখে প্রচারনার লক্ষে অভিনেতা জয় চৌধুরী কথা বলেন সময়ের কন্ঠস্বরের সাথে। সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে জয় বলেন, আমার খুব ইচ্ছা ছিল মালেক আফসারী স্যারের একটা সিনেমা করবো। এরপর জায়েদ ভাই প্রথমে আমাকে নক করে জয় আমার একটা ছবি আছে করতে হবে। আমি তাকে বড় ভাইয়ের মতো মানি, সন্মান করি সেও আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো সেন্হ করে।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালে যখন আমি সিনেমার কাজে আসি তখন মনোয়ার হোসেন ডিপজল সাহেব তার ফুলবাড়িয়ার বাগান বাড়িতে রেখে গ্রুমিং করায়। সেখান থেকেই জায়েদ ভাই আমাকে পছন্দ করে। দুজনের একসঙ্গে কাজের ইচ্ছা তখন থেকেই ছিল আর মালেক আফসারী স্যারের সাথে আগে একটা ছবির কথা হলেও করা হয়নি। আর যখন সিনেমাটিতে আমার চরিত্রের কথা শুনলাম শুনে বালো লেগে যায়। এভাবে ফাইনালি এবার কাজ হলো।

সিনেমাটির বিষয়ে জয় বলেন, অন্তর জ্বালা হলো একটা পরিবারের ভালোবাসার গল্প। প্রত্যেকটা পরিবারেই দুঃখ কষ্ট ভালোবাসা থাকে। যা কেউ ভাঙতে পারে না। এই ছবির পরিচালক মালেক আফসারি একটি পরিবারের গল্পকেই তুলে এনেছেন। যেখানে ছোট বোন আছে, ভাই আছে, সংসারে আছে নানা টানাপড়েন। এ ধরনের একটি পরিবারের আমি হলাম মেঝ ছেলে। আর জায়েদ ভাই বড় ছেলে। এই সিনেমায় দর্শক দেখতে পাবে একজন ভাইয়ের প্রতি আরেকজন ভাইয়ের অকৃত্রিম ভালোবাসার নমুনা।

সিনেমাটির শুটিংয়ের বিষয়ে জয় বলেন, আমরা শুটিংয়ে কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হই। যখন পিরোজপুরে গ্রামের লোকেশনে কাজ করি, লোকাল জায়গা হওয়ায় সেখানে অনেক লোকজনের ভিড় থাকতো। এটা কাজের ক্ষেত্রে অনেক বড় সমস্যা। সেখানে চব্বিশ ঘণ্টা আমাদের সঙ্গে পুলিশ থাকলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো না। এত ঝামেলার মধ্যেও পিরোজপুরে একটানা ৫২ দিন আমরা শুটিং করেছি। তারপর ঢাকায় এসে ৬২ দিনের মতো শুটিং করি।

সহশিল্পীর সাথে বোঝাপড়ার বিষয়ে জয় বলেন , আমার বিপরীতে ছিল মৌমিতা। তার সাথে আমার রসায়নটা খুবই ভালো ছিল। সে খুব ভালো অভিনয় করে, ভালো নাচ করে। কাজের ব্যাপারেও আন্তরিক ছিল।

আগের সিনেমার চেয়ে এই সিনেমায় নিজেকে ডেভোলোপ করার বিষয়ে জয় বলেন, আমি এর আগে এফ আই মানিক, ওয়াজেদ আলী সুমন এর মতো ভাল পরিচালকের সিনেমায় কাজ করেছি। এবার সবার পরিচিত মাস্টার মেকার পরিচালক মালেক আফসারি স্যার এর সিনেমায় কাজ করতে অনেক নতুন কিছু সিখেছি। যেমন শুটিংয়ে একরকম, ডাবিংয়ে আরেক রকম। যদি এই সিনেমায় জয় না হয় তাহলে আর জয় হবে না ।

অন্তর জ্বালা নিয়ে প্রত্যাশার জায়গাটা নিয়ে জয় বলেন, বিগত কয়েক বছরের যে কয়টি বাংলা সিনেমা মুক্তি পেয়েছে আমি দেখেছি তার মধ্যে এই সিনেমাটি অনেক ভাল হয়েছে। আমার নিজের সিনেমা বলে বলছি না। আমার এই সিনেমার মাদ্ধমেই বুঝা যাবে দর্শক আমাকে চায় কিনা। 'অন্তর জ্বালা' ভালো না হলে নতুন কোন ছবি করবো না। যেগুলা সাইন করা আছে সেগুলাই শেষ করব নতুন আর সিনেমা করবো না।

উল্লেখ্য, তরুণ অভিনেতা জয় চৌধুরী ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করে নিয়েছেন। ২০১২ সালে প্রবীণ নির্মাতা এফ আই মানিকের পরিচালনায় মনোয়ার হোসেন ডিপজলের এক জবান চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে জয় চৌধুরীর চলচ্চিত্র অভিষেক ঘটে। এরপর ভালোবাসলে দোষ কি তাতে, আজব প্রেম, হিটম্যান, চিনি বিবি, ক্ষনিকের ভালোবাসা নামের সিনেমায় কাজ করেছেন।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি