অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে প্রতিবাদ জানালো চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- যুক্তরাষ্ট্রের মতো অর্থনৈতিক ও সামরিক খাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলেও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না চীনের। গত সপ্তাহে খোদ অসি প্রধানমন্ত্রী মালকম টার্নবুল-ই চীনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে চীন। টার্নবুলের এই অভিযোগের জবাব দিতে ৮ ডিসেম্বর বেইজিংয়ে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানায় চীন।

সম্প্রতি ক্যানবেরা জানায়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বহির্বিশ্বের প্রভাব রোধে রাজনৈতিক খাতে বিদেশি অনুদান নিষিদ্ধ করবে অস্ট্রেলিয়া। এ সময় অস্ট্রেলিয়ায় ধীরে ধীরে চীনের প্রভাব বিস্তারের দিকে নির্দেশ করা হয়। অসি প্রধানমন্ত্রী টার্নবুল চীনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বিদেশি শক্তি অপ্রত্যাশিত ও সুকৌশলে ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।’

এর প্রতিক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত জ্যান অ্যাডামসকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে তার সঙ্গে বৈঠক করা হয় এবং প্রতিবাদ জানানো হয়। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং বলেছেন, অস্ট্রেলীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য না জানালেও লু কাং বলেন, ‘প্রাসঙ্গিক ইস্যুতে চীনের অবস্থান সম্পর্কে অস্ট্রেলীয় পক্ষের পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত।’

টার্নবুলের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় গত সপ্তাহে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ‘চীনের বিরুদ্ধে টার্নবুলের অভিযোগ অনুমাননির্ভর, ভিত্তিহীন এবং চীন-অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের পরিবেশের জন্য বিষাক্ত।’ টার্নবুলের অভিযোগের বিরোধিতা করে অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল লেবার পার্টি বলে, চীনবিরোধী পক্ষপাতী অবস্থান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের জন্য খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে টার্নবুল বিরোধীদের অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। গত বছর তাদের কাছ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ও সেবা কিনেছিল চীন। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক থাকলেও চীনের বিষয়টিও এখন ভাবতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়াকে।