মিজানুর রহমানসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল

সময়ের কণ্ঠস্বর- ঋণ জালিয়াতির মামলায় মুন বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমারের আদালতে চার্জশিটটি দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. বেনজীর আহম্মদ।

বিচারক চার্জশিটটি ‘দেখিলাম’ মর্মে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে পাঠানো হবে। দুদকের প্রসিকিউশন শাখার উপসহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান এ তথ্য জানান।

চার্জশিটভুক্ত অপর আসামিরা হলেন- অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের প্রাক্তন এমডি ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সৈয়দ আবদুল হামিদ, প্রাক্তন মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান খান, প্রাক্তন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোফাজ্জল হোসেন, উপব্যবস্থাপক মো. আখতারুল আলম, প্রাক্তন উপমহাব্যবস্থাপক (অবসরপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল ইসলাম, প্রাক্তন সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. শফিউল্লাহ ও প্রাক্তন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম।

চার্জশিটে বলা হয়, আসামি মিজানুর রহমান ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পাইকপাড়া মৌজার দাগ/প্লট নং-৫৫৫ এর ৫২ শতাংশ জমির ওপর ২১ তলা (বেইজমেন্টসহ) আবাসিক কাম বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের জন্য অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক বরাবর ১৩০ কোটি টাকা গৃহ নির্মাণ ঋণ মঞ্জুরের আবেদন করেন। পরবর্তী সময়ে আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভবনের স্বাভাবিক নির্মাণ ব্যয় ও আয় দেখিয়ে মিথ্যা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গ্রাহককে (মিজানুর রহমান) ১০৮ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করেন এবং পর্যায়ক্রমে ৯৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে ৩৪ কোটি ৩০ লাখ ৮০ হাজার টাকার কাজ করেন এবং অবশিষ্ট ৬০ কোটি ৪৯ লাখ ১৯ হাজার ৬৩০ টাকা আত্মসাৎ করেন। প্রকল্পের জমিতে মালিকানা বিরোধ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা পেন্ডিং থাকা অবস্থায় রাজউক কর্তৃক ভবন নির্মাণের বাতিলকৃত নকশার ওপর নির্মাণ কাজে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আসামিরা পরস্পর যোগাসাজসে এ ঋণ মঞ্জুর করে অর্থ আত্মসাৎ করেন। ২০১৬ সালের ৩০ জুন রাজধানীর মতিঝিল থানা এ মামলাটি দায়ের করা হয়।