উহুদ পাহাড়ের মত হবে জাহান্নামীদের দাঁত!

ইসলাম ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর- আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামিন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার দাসত্ব করার জন্যে। মানুষকে পাঠানোর সাথে দিয়েছেন নির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা। আমরা যদি সেই দিক নির্দেশনা অনুযায়ি জীবনযাপন করি তবে তিনি আমাদেরকে দিবেন চিরসুখের জান্নাত। আর যদি যদি সেই জীবনবিধানের আলোকে না চলি তাহলে তিনি আমাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। আর সেই ‘জাহান্নাম’ অত্যান্ত কঠিন একটি জায়গা। মহান আল্লাহ রব্বুল আলমিন ৮ টি জান্নাত ও ৭ টি জাহান্নাম তৈরি করেছেন। সেই জাহান্নামের ভয়াবহতা এত বেশি যেটা কল্পনাও করা যাবেনা।

কুরআন হাদীসে পাওয়া যায়, জাহান্নামের গভীরতা এমন যে, এর মুখ থেকে একটি পাথর ফেলে দিলে জাহান্নামের তলদেশে পৌছাতে ৭০ বছর সময় লাগে। বিচারের দিন জাহান্নামকে ৭০ হাজার শিকল দ্বারা টেনে আনা হবে যার প্রত্যেক শিকল ৭০ হাজার ফেরেশতা বহন করবেন। জাহান্নামে চাঁদ এবং সূর্যকে নিক্ষেপ করা হবে আর জাহান্নামে তা অবলীলায় হারিয়ে যাবে। জাহান্নাম বাসীর শরীরের চামড়া ১২৬ ফুট পুরু করে দেওয়া হবে যাতে করে আযাব অত্যন্ত ভয়াবহ হয়। তাদের শরীরে আরও থাকবে তিল যার এক একটি হবে উহুদ পাহাড়ের সমান। আর জাহান্নাম বাসীর বসার জায়গা হবে মক্কা থেকে মদীনা পর্যন্ত দূরত্বের সমান।

প্রতিদিন জাহান্নামের আযাব পূর্বের দিন থেকে আরও তীব্র আর ভয়াবহ করা হবে। জাহান্নামের খাদ্য হবে কাঁটাযুক্ত গাছ আর পানীয় হবে ফুটন্ত পানি, পুঁজ, পুঁজ ও রক্তের মিশ্রণ এবং উত্তপ্ত তেল। এরপরও জাহান্নাম বাসীর পিপাসা এত বেশি হবে হবে যে তারা এই পানীয় পান করতে থাকবে। জাহান্নামের এই ভয়াবহ কল্পনাতীত আযাব অনন্ত কাল ধরে চলতে থাকবে। জাহান্নাম বাসীরা এক পর্যায়ে জাহান্নামের দেয়াল টপকিয়ে পালাতে চেষ্টা করলে তাদেরকে লোহ হাতুড়ি দ্বারা আঘাত করে ফেলে দেওয়া হবেl

এই পার্থিব জীবনে যারা মহান আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি ইমান এবং সর্বশেষ নবী সা. এর প্রতি ইমান না নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে তারাই হবে চির হতভাগা। তাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে চিরস্থায়ী জাহান্নাম।

হাদীসে এসেছে, প্রতিটি জাহান্নামীর শুধুমাত্র দাঁতের আকৃতি হবে উহুদ পাহাড়ের ন্যায়। দাঁতই যদি এত বিশাল বড় হয় তাহলে তার শরীরের আকৃতি কেমন ভয়নক বিশালাকৃতির হবে। এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কাফিরদের দাঁত উহুদ পাহাড়ের সমতুল্য হবে এবং তাদের চামড়ার পুরত্ব হবে তিন দিনের (পথের দূরত্ব পর্যন্ত)। (মুসলিম হাদীস নং ৬৯২২)

অন্য হাদীসে এসেছে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি বনী কা’বের সদস্য (পিতৃতুল্য) আমর ইবনু লুহায় ইবনু কামআ ইবনু খিনদাফকে জাহান্নামের মধ্যে দেখেছি। (পেট হতে তার সব) নাড়ী-ভুড়ি (বেরিয়ে পড়ছে, আর সে সেগুলো) টেনে নিয়ে হাঁটছে। (মুসলিম হাদীস নং ৬৯২৮)

আসলে মানুষ যদি একটু চিন্তা করে আমি যদি এই মহুর্তে মারা যাই তাহলে আমাদের কি হবে? আমি কোথায় যাবো! চির সুখের জান্নাতে, নাকি কঠিন আজাবের জাহান্নামে! আমরা সাধারনত যদি একটু খেয়াল করি, সমান্য একটু রোদ বেশি হলে সেই তাপ আমরা সহ্য করতে পারি না, আবার একটু বেশি শীত করলে সেটাও সহ্য করতে পারি না! তবে জাহান্নামের আগুন কিভাবে সহ্য করবো! আমাদের জীবন পরিবর্তনের জন্যে এতটুকুন চিন্তাই যতেষ্ঠ। আল্লাহপাক রব্বুল আলামিন আমাদেরকে তারি দ্বীনের পথে পরিচালিত করে জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি দান করুন। আমিন।