‘জেরুজালেমের জন্য আমাদের জীবন রক্ত সন্তান ও বাড়িঘর সব কিছুই কোরবানি করবো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- ওয়াশিংটনের প্রতি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে ফিলিস্তিনের হামাসের নেতা ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, এমন কোনো সুপারপাওয়ার নেই যে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী করে দিতে পারে। প্রয়োজনে আমরা আমাদের জীবন, আমাদের রক্ত, আমাদের সন্তান ও বাড়িঘর সব কিছুই কোরবানি করবো এই জেরুজালেমের জন্য।

বৃহস্পতিবার গাজা শহরের আল-কাতিবা স্কোয়ারে ফিলিস্তিনি আন্দোলনের সংগঠন হামাস প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। খবর রয়টার্সের।

ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত সপ্তাহের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এক ভাষণে তিনি বলেন, হামাস দৃঢ় আশা করছে যে, ওয়াশিংটন এ সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে নিবে এবং কথিত ‘শত বছরের চুক্তি’র পরিকল্পনা বাতিল করবে।

হামাস বৃহস্পতিরবার তার প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। জেরুজালেম ইস্যুতে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠা সংগঠনটির বর্ষপূর্তি নেতা কর্মীদের মধ্যে আরো বেশি উজ্জ্বীবিত করে। গাজা শহরের আল-কাতিবা স্কোয়ারে এ দিন এক অনুষ্ঠানে সংগঠনটির হাজার হাজার নেতা, কর্মী, সদস্য, সমর্থকরা অংশগ্রহণ করে।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য মার্কিন প্রশাসন ‘শত বছরের চুক্তি’ নামক একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করে, যা বাস্তবায়নের জন্য আগামী বছর থেকে কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গর্জে ওঠায় ফিলিস্তিনি নাগরিক, আরব দেশ ও মুসলিম বিশ্বকে ধন্যবাদ জানান হানিয়া। এছাড়াও ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের সমর্থনে একটি সমন্বিত জাতীয় প্রয়াস সৃষ্টিতে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান এ হামাস নেতা।

উল্লেখ্য ইসরাইলি দখলদারিত্ব থেকে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে ও ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৯৮৭ সালে গাজায় ইসলামি সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা হয়। ফিলিস্তিনি আন্দোলনের অন্যতম নেতা শেখ আহমেদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠে।

মাত্র ১২ বছর বয়সে দুর্ঘটনায় চোখের জ্যোতি হারানো শেখ ইয়াসিন সারাজীবন হামাসকে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। ৬৭ বছর বয়সে ২০০৪ সালে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য বের হলে ইসরাইলি হেলিকপ্টার হামলায় তাকে হত্যা করা হয়। হামাসের বর্তমান নেতা ইসমাইল হানিয়া। গাজার প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষও এখন হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন।

সংগঠনটি শুরু থেকে আদর্শ প্রচার ও সশস্ত্র আন্দোলনের জন্য আলাদা বাহিনী গড়ে তুলেছে। সশস্ত্র বাহিনী কাসেম বিগ্রেড দীর্ঘ দশক ধরে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে। ইসরাইলের পক্ষপাত দুষ্টে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ স্বাধীনতাকামী এ সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে।

গত ৩০ বছর ধরে ফিলিস্তিনি আন্দোলনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হামাসের অবদান অবিষ্মরণীয়। ইসরাইল সংগঠনটির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে প্রচারণা চালালেও মুসলিম বিশ্বে হামাসকে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছে।