শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

সাভার স্মৃতিসৌধ থেকে, মুন্নি আক্তার,  সময়ের কণ্ঠস্বর -

মহান বিজয় দিবসে লাখো মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হতে পুরোপুরি প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এদিন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিদেশি কূটনৈতিক, বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। লাখো জনতার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধায় ফুলে ফুলে ঢেকে যাবে স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদি।

দিবসটি পালন উপলক্ষে এরই মধ্যে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে শতাধিক শ্রমিক গত ১০ দিন ধরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চালায়। জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদি থেকে শুরু করে পুরো এলাকা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করার পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য লাগানো হয়েছে রং-বেরং এর ফুলের চারা।

সবুজ বৃক্ষরাজিতে ঘেরা স্মৃতিসৌধ চত্বরের কৃত্রিম হ্রদে ঝলমলে আলোয় ফুটে উঠেছে লাল শাপলা।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য স্মৃতিসৌধের আশপাশ ও সম্মুখভাগে বসানো হয়েছে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি। লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। স্থাপন করা হয়েছে পুলিশ কন্ট্রোল রুম।

এছাড়া সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদানের জন্য নবম পদাতিক ডিভিশনের মহড়াও সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে ফেলেছে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা।

গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও মেরামত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জাতির বীর সন্তানদের প্রতি সর্বস্তরের জনতার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য জাতীয় স্মৃতিসৌধকে ধুয়ে-মুছে রং তুলির আচড়ে নতুনরূপে সাজানো হচ্ছে। ১৬ই ডিসেম্বর প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

বিজয় উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে সাভারকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধের আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাভারের আমিনবাজার থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকার আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গড়ে তোলা হয়েছে চার-স্তরের নিরাপত্তা বলয়। পোশাকের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে জাতির শ্রদ্ধা নিবেদনের চিরন্তন প্রতীক জাতীয় স্মৃতিসৌধ।