‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্ব আগের যে কোন সময়ের চেয়ে উন্নত’স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধুত্ব আগের যে কোন সময়ের চেয়ে উন্নত। এই সম্পর্ক দিন দিন আরো উন্নত হচ্ছে । ভারতের অকৃত্রিম সহযোগিতায় ১৯৭১ ডিসেম্বরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধনীতার বিজয় অর্জন করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তদানীন্তন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতের সরকার এবং জনগণ আমাদেরকে সহযোগিতা করেছে, আশ্রয় দিয়েছে এমনকি রক্ত দিয়েছে। ভারতের এ সহযোগিতার কথা বাংলাদেশের মানুষ ভুলতে পারে না।

বিজয় দিবসের প্রাক্কালে আমি বাংলাদেশের জনগণ এবং প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ভারতের জনগণকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। শুক্রবার বিকালে ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা যাওয়ার আগে আখাউড়া বিজিবি কোম্পানী সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ত্রিপুরায় গেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।
বিকালে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে তিনি ত্রিপুরায় যান। এসময় মন্ত্রীর সফসসঙ্গী ছিলেন স্ত্রী, সাংবাদিক সুভাষ সিংহ রায়সহ ৯জন। স্থল বন্দরের শূণ্যরেখায় তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ত্রিপুরাস্থ সহকারী দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার শাখাওয়াত হোসেন।

মন্ত্রী বলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিব নগর সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে আমার পিতা সৈয়দ মুনসর আলী, মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহিত করতে অনেকবার ভারতের ত্রিপুরায় গেছেন। তার মুখ থেকে আমি সেসময় ত্রিপুরার জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতার কথা শুনেছি। কিন্তু এতদিন আমার ত্রিপুরায় আসার সুযোগ হয়নি। ত্রিপুরায় বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনের আমন্ত্রণে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমি প্রথমবারের মতো ত্রিপুরায় যাচ্ছি।

আমার অনুভূতি হলো ভারতের একটি অংশে বাঙালীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ হয়েছে। আশা করি ত্রিপুরার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীসহ নেতৃত্বস্থানীয় লোজনের সাথে দেখা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের সরকার এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকার ফলে উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অনেক উচ্চতায় উঠে গেছে। বন্ধুপ্রতীম এই দুই দেশের সম্পর্ক দিন দিন আরও দৃঢ় হবে।

এর আগে বিকাল সাড়ে তিনটায় মন্ত্রী সড়ক পথে ঢাকা থেকে আখাউড়া স্থলবন্দরের বিজিবি আইসিপি কোম্পানী সদরে এসে পৌঁছেন। সেখানে তিনি কিছুক্ষণ সময় কাটান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ১২ বিজিবি ব্যাটালিনের অধিনায়ক কর্ণেল শাহ আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সামছুল হক।

ত্রিপুরাস্থ সহকারী দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে সকালে দুতাবাসে বিজয় দিবস উদযান এবং সন্ধ্যায় আগরতলা রবীন্দ্রশতবার্ষিকী ভবনে বিজয় দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী শ্রী মানিক সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম উপস্থিত থাকবেন। বিজয় দিবসের সন্ধ্যায় সংগীত পরিবেশন করবে বাংলাদেশের ব্যান্ড বিজয় ।