‘তারেক জিয়া ও খালেদা জিয়া সেইভ সাইডে ছিলেন’ ফারুক আহম্মেদ তালুকদার

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি: বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও বাউফল উপজেলা বিএনপির সভাপতি শিল্পপতি একেএম ফারুক আহম্মেদ তালুকদার বলেছেন, ‘গত কয়েক বছর তারেক জিয়া সেইফ সাইডে, খালেদা জিয়া সেইভ সাইডে, সবাই সেইভ সাইডে ছিল। এ কারণে আমিও ছিলাম।’ এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি দলীয় সাধারণ নেতা কর্মীরা।

গত শনিবার রাতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি ওই কথাগুলো বলেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহজাদা মিয়া সাধারণ সম্পাদক শহীদুর রহমান তালুদকার, সাংগাঠনিক সম্পাদক অলিয়ার রহমার, বাউফল পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফারুক আহম্মেদ পটুয়াখালী- ২ (বাউফল) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। এরপর থেকে তিনি ঢাকায় থাকেন। সরকার বিরোধী কোনো আন্দোলনেই তিনি এলাকায় ছিলেন না। ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর উপজেলা বিএনপির ডাকা কর্মীসভায় তাঁর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি আসেননি। এর আগে দুই-তিন বার এলাকায় এসেছিলেন। সর্বশেষ দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পর ফারুক আহম্মেদ গত বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে পটুয়াখালীর বাউফলে আসেন দলীয় কার্যক্রম করার জন্য।

মতবিনিময়ের সময় তিনি আরও বলেন, তিনি পেশাগতভাবে রাজনীতিবিদ না, পেশাগতভাবে তিনি একজন ব্যবসায়ী। তবে এখন থেকে তিনি এলাকায় আসবেন। নেতা কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। দল গুছাবেন। আর খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে এসে তাঁকে ডেকে বলেছেন তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
তবে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দিবে তিনি তাঁর জন্য কাজ করবেন।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হলে আপনারা অংশ নিবেন কিনা? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আগামী নির্বাচনে আমরা অংশ নিব। আর আওয়ামী লীগকে একক ভাবে গোল দিতে দেয়া যাবে না এটা দলের সিদ্ধান্ত।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি শহীদুল আলম তালুকদার বলেন,‘তারেক জিয়া ও খালেদা জিয়া কখনোই সেইভ সাইডে ছিলেন না। তাঁর (ফারুক আহম্মেদ) এ বক্তব্য দলের জন্য অশোভনীয় এবং সাধারণ কর্মী সমর্থকেরা ক্ষুদ্ধ ও হতাশ।’

উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন ওই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘শারীরিক অসুস্থতার জন্য তারেক রহমান লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আর হামলা, মামলাকে উপেক্ষা করে বেগম খালেদা জিয়া সার্বক্ষনিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন হবে না এবং বিএনপিও অংশগ্রহন করবে না। দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা হবে।’