নির্ঘুম রাত কাশির সাথে?

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ

বার-বার কাশি হচ্ছে, রাতে কাশি বেশী, কাশতে কাশতে কখনও বমি হয়ে যাচ্ছে, কখনও বা কাশির সঙ্গে গা-হাত-পায়ে ব্যথা।এমনটাতো মাঝে-মাঝেই হয়।

লাগাতার সাত-আট দিন কাশি হলে চিন্তা হয় বইকি। ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি রক্ত-পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে করান, কখনও সঙ্গে কফের পরীক্ষাও।

ওষুধ হিসেবে বড়ি বা ক্যাপসুলের সঙ্গে থাকে এক শিশি কাশির সিরাপ। কাশির সিরাপ কি দরকারী? অনেকেই কাশি দ্রুত সারিয়ে তোলার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার জন্য চিকিতসকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন।

যদিও এ সব পরিস্থিতিতে অ্যান্টিবায়োটিকসের মতো ওষুধ খাওয়ার কোনোই প্রয়োজন পড়ে না। প্রতি তিন জন রোগীর মধ্যে দু’জনই কাশির সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান। আর এ সব কাশির রোগীর অর্ধেককেই শেষ পর্যন্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়।

প্রচণ্ড কাশি সারতে গড়ে ১৮ দিন সময় লাগ। কাশি নিয়ে সাধারণ মানুষ যা ভাবেন তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।কারো যদি ব্রঙ্কাইটিস হয় এবং চার/পাঁচ দিনের মধ্যে তা যদি ভাল না হয় তখন তারা ভাবেন ডাক্তার দেখিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার সময় এসে গেছে।

এ ছাড়া, চার/পাঁচ দিন পরও যখন প্রথম দফা অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করে তখন তারা আবার ডাক্তারের কাছে ফিরে আসেন। কাশি হলে কি করবেন? 1. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন , এতে কফ পাতলা হবে, কফ বার করার চলন্ত সিঁড়ি ভালভাবে কাজ করতে পারবে। 2. গরম পানির ভাপ নিন। ভাপ শ্বাসনালীতে গিয়ে জলে পরিণত হবে, কফ পাতলা হবে।

3. শুকনো কাশিতে গলা খুসখুস করলে হাল্কা গরম জলে একটু নুন দিয়ে কুলকুচি করুন। মুখে সাধারণ যে কোন লজেন্স, লবঙ্গ বা আদা রাখলেও একটু আরাম পাওয়া যাবে। কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে?

1. কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে। 2. কফের সঙ্গে রক্ত পড়লে। 3. কাশতে কাশতে শরীর নীল হয়ে গেলে। 4. কথা বলতে কষ্ট হলে। 5. দুধের বাচ্চা দুধ টেনে খেতে না পারলে। আমাদের দেশে প্রচুর যক্ষ্মা রোগী, তাই কোন রোগীর কাশি দুই বা তিন সপ্তাহের সপ্তাহের বেশী হলে,কফ পরীক্ষা করে দেখা উচিত।

ডা.মোহাম্মদ আজিজুর রহমান,বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ,ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার,লালবাগ,ঢাকা। মোবাইল:০১৭৮৩৩৫৬০৪৮,০১৮৪২৩৫৬০৪৮

Leave a Reply