জীবনের শুরুতেই ভয়ংকর লালসার শিকার হয়ে হাসপাতালের বেডে নিস্পলক অবোধ ছোট্ট শিশু!

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর-

নিস্পাপ শিশুটি জানেইনা কি হতে যাচ্ছিলো বা কি হয়েছে তার সাথে। হঠাত থমকে যাওয়া চঞ্চল শিশুটি সেই ঘটনার আকস্মিকতায় এখন সবার দিকেই তাকাচ্ছে ভয়ার্ত চোখে। জীবনের শুরুতেই ভয়ংকর বিকৃত লালসার শিকার হয়ে এখন হাসপাতালের বেডে নিস্পলক তাকিয়ে আছে অবোধ ছোট্ট শিশুটি।
শুধু ঘটনার শিকার শিশুটিই নয় অপ্রত্যাশ্যিত এমন ঘটনায় যেন প্রতিবাদেরও শক্তি হারিয়েছেন অসহায় বাবা-মা ।

ঘটনাস্থল খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার উত্তর গঞ্জপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
স্কুলের পাশেই বাড়ি । ষে স্কুলে এবারই প্রথম শ্রেনীতে ভর্তি করেয়েছিলো বাবা-মা। শিশুটির বাবা-মায়ের বক্তব্যমতে, ‘স্কুলের হেডমাস্টার (প্রধান শিক্ষক) খুব বিনয়ি স্বভাবের। স্কুলের পাশেই বাড়ি হবার সুবাদে পারিবারিক সখ্যতাও ছিলো।
ঘটনার শিকার শিশুটিকেও ভীষণ ‘স্নেহ’ করতেন ঐ শিক্ষক। শিশুটির বাবা-মা হয়তো দুঃস্বপ্নেও কোনদিন ভাবেননি ওমন বিনয়ী স্বভাবের হেডমাস্টারের ভেতরে লুকিয়ে আছে এমন ভয়ানক নরপশু।’

ঘটনার দিন সোমবার বিকালে স্কুল ছুটির পর হেডমাস্টার রফিকুল ইসলাম নতুন বই দেবার কথা বলে শিশুটিকে বাড়ির সামনে থেকে কোলে করে নিয়ে যান স্কুলের অফিস কক্ষের ভেতরে । মা হাসিমুখেই যেতে দিয়েছিলো সন্তানকে । কল্পনাতেও ভাবেননি কি ভয়ংকর মুহুর্ত অপেক্ষা করছে সন্তানের জন্য।
কিছুক্ষন পরেই হেডমাস্টারের কক্ষ থেকে শিশুটির চিতকার ভেসে আসে। মাঠে খেলারত কয়েকজনের কানে ভেসে আসে সেই শব্দ। প্রথমে খুব একটা আমল দেয়নি তারা। পরে কৌতুহলি কেও একজন লক্ষ্য করে অফিস কক্ষের দরোজা ভেতর থেকে বন্ধ। এরইমধ্যে দেরি হবার কারনে অফিসের সামনে চলে আসেন শিশুটির মা। এবার মায়ের কানেও ভেসে আসে শিশুটির গোঙানির শব্দ। নিশ্চিত তার সন্তানের সাথে ‘খারাপ কিছু হচ্ছে’ এমনটা ভেবে দরোজা ধাক্কাতে থাকে মা। মিনিট কয়েক পর দরোজা খুলে বেরিয়ে আসে লম্পট শিক্ষক।
ঐ মায়ের ভাষ্যমতে, প্রচন্ড রাগি চোখে হেডমাস্টার বলে, ‘কি হয়েছে এত দরোজা ধাক্কানোর কি আছে ? এত বদমাইশ মেয়ে! কোন কথা শোনেনা! যান নিয়ে যান’।
অফিসের ভেতর ভয়ার্ত চোখে গুটিশুটি মেরে বসেছিলো শিশুটি। মায়ের কোলে আসতেই প্রচন্ড শব্দে কাদতে শুরু করে। শিশুটিকে নিয়ে বাসায় ফেরেন মা। এই সুযোগে স্কুলের তালা বন্ধ করে সটকে পরেন হেডমাস্টার।
পরে বাসায় এসে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আচড়ের চিহ্ন দেখতে পান মা। অবোধ শিশুটি কিছু বলতে না পারলেও মায়ের বুঝতে বাকি থাকেনা কি ভয়ংকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলো তার মেয়ে।

এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদি হয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন । রাতেই অভিযান চালিয়ে ছয় বছর বয়সী ঐ শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার মামলায় অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান,গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম উপজেলার উত্তর গঞ্জপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। সোমবার বিকালে উত্তর গঞ্জপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল তার মেয়েকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করে নতুন বই দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অফিস কক্ষে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
পরে মামলার অভিযোগ পাবার পর ঐ শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঐ শিক্ষক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানান ওসি আব্দুল হান্নান।

আজ মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎক নয়ন ময় ত্রিপুরা সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে । তবে প্রতিবেদন এখনও হাতে পাননি তারা।