বিশ্ব ইজতেমা: বিমানবন্দরে মাওলানা সাদকে ঠেকাতে ব্যাপক বিক্ষোভ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অন্যতম আলেমগণ মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে তাবলিগ জামাতের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমায় না আসার আহ্বান জানায়।

বিশ্বের শীর্ষ আলেমদের মতামত ও সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে আজ (১০ জানুয়ারি) বুধবার ঢাকায় আসছেন মাওলানা সাদ কান্ধলভী। তার আসাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিমানবন্দর এলাকায় বিক্ষোভ করছেন আলেম ওলামায়েরা।

দিল্লির নেজামুদ্দিনের মুরব্বি মাওলানা সাদ যেন বাংলাদেশে আসতে না পারেন সেজন্য বুধবার সকাল থেকে বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হয়েছেন আলেম-ওলামারা।

নিজের বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার না করে এবং সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে মাওলানা সাদের ইজতেমায় আসা উচিত নয় এমন দাবিতে তারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। আলেমরা এখন বিমানবন্দর গোলচত্বর অবস্থান করছেন বলে জানান মাদরাসা বাইতুল মুমিনের মুহতামিম মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন।

গোলচত্বরের চারপাশে অস্থায়ী মঞ্চ স্থাপন করে আলেমরা বক্তব্য দিচ্ছেন। বক্তৃতায় তারা বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের যে নিরপেক্ষ ইমেজ রয়েছে তা অক্ষুণ্ন রাখার দাবি জানান।

শাহজালাল বিমানবন্দর থানার ওসি নূরে আযম সিদ্দিকী বলেন, বিমানবন্দর গোলচত্বর এলাকায় পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছেন আলেম-ওলামারা। মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে যেনো বাংলাদেশে আসতে দেয়া না হয় সেজন্য স্লোগান দিচ্ছেন তারা। মাওলানা সাদ কান্ধলভী আজ দুপুরে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা তাকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেবো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাবলিগের মূল কেন্দ্র ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দীন মারকাজ। সেই মারকাজের আমির মাওলানা সাদের একটি বক্তব্য ‘তাবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’- এর জের ধরেই বিতর্কের সৃষ্টি। ভারতের সবচেয়ে বড় ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে তার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়। তার এমন বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য বলা হলেও মাওলানা সাদ উল্টো যুক্তি দেন। তারপর থেকেই মাওলানা সাদকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বাংলাদেশের কওমিপন্থি ও হেফাজতের অনুসারী আলেমরাও মাওলানা সাদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদ যেন না আসতে পারেন সেজন্য আলেমরা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেন। তাবলিগের বাংলাদেশের ১১ জন শূরা সদস্যের মধ্যে ছয় জনই আলেমদের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেন। তারপরও একটি অংশ তাবলিগের মুরব্বি ওয়াসিফুল ইসলামের নেতৃত্বে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এদিকে গত ৭ জানুয়ারি তাবলীগ জামাতের মুরুব্বী ও কওমি আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি মাওলানা সাদের ঢাকা সফরের প্রতি নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেন। যাত্রাবড়িার জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় এ বিষয়ে আলেমদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ তাবলীগের শুরা সদস্য, উপদেষ্টারাও এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

রবি