বিমানবন্দরে আলেম-ওলামাদের বিক্ষোভ, ২০ কি.মি তীব্র যানজট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর- বিশ্ব ইজতেমায় ভারতের তাবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর এ দেশে আসার প্রতিবাদে বিমানবন্দর এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। তাবলিগ জামাতের একাংশ এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছে।

৪ ঘণ্টা ধরে হাজার হাজার আলেম ওলামারাদের চলা এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র কের বিমানবন্দরের সামনের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুপাশে ২০কিলোমিটারব্যাপী যানজট তৈরি হয়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যের কারণের সমালোচিত মাওলানা সা’দ আজ বুধবার বাংলাদেশে আসছেন- এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে তার আগমন ঠেকাতে বুধবার সকাল থেকে বিমানবন্দরের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বিক্ষোভ করছেন তাবলিগ জামাতের একটি অংশ এবং আলেম-ওলামারা।

মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে যেনো বাংলাদেশে আসতে দেয়া না হয় সেজন্য স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এছাড়া উত্তরা এলাকার বিভিন্ন মসজিদে এবং বিশেষ করে এয়ারপোর্ট এলাকার মসজিদগুলোতে আলেম ওলামা ও মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন।

মাওলানা সাদ কান্ধলভী তার নিজের বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার না করে এবং সবার সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে মাওলানা সাদের ইজতেমায় আসা অনুচিত এমন দাবিতেই তারা সমাবেশ করছেন।

জানা গেছে, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহজালালে পৌঁছান মাওলানা সাদ। তাকে স্বাগত জানানোর জন্য ঢাকার কাকরাইলের মুরুব্বি প্রকৌশলী সৈয়্দ ওয়াসিফুল ইসলামের নেতৃত্বে তবলিগ জামাতের আরেক অংশের সমর্থকরা অবস্থান করছেন।

তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত মাওলানা মোহাম্মদ সাদকে শাহজালাল বিমানবন্দরেই রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর থানার ওসি নূরে আযম মিয়া।

ওসি নূরে আযম সিদ্দিকী জানান, মুসল্লিরা বিমানবন্দর চত্বরে অবস্থান নেয়ায় প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। মাওলানা মোহাম্মদ সাদকে আপাতত বিমানবন্দরের ভেতরেই রাখা হবে। এ মুহূর্তে তাকে ইজতেমা মাঠে নেয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, দিল্লির নিজামুদ্দিনের ‘বিতর্কিত’ মুরব্বি মাওলানা মুহাম্মদ সা’দের আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় আসার বিরোধিতা করছেন বাংলাদেশ-ভারতের তাবলিগ-জামাতকর্মী ও কওমিপন্থী আলেমদের একাংশ।

তারা বলছেন, দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে সা’দের ‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের কারণে তার সঙ্গে কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আহমদ শফীসহ বাংলাদেশের সিনিয়র আলেমরাও চান, বিশ্ব ইজতেমায় সংঘর্ষ এড়াতে সা’দ ও তার অনুসারী বা বিরোধীরাও যেন ইজতেমায় অংশ না নেন। যদিও তাবলিগের শুরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ খান শাহাবুদ্দীন নাসিম, অধ্যাপক ইউনূস শিকদার, মাওলানা মোশাররফ হোসাইন সা’দের ঢাকা সফরের পক্ষে রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাবলিগের মূল কেন্দ্র ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দীন মারকাজ। সেই মারকাজের আমির মাওলানা সাদের একটি বক্তব্য ‘তাবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’- এর জের ধরেই বিতর্কের সৃষ্টি। ভারতের সবচেয়ে বড় ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ থেকে তার এ বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়। তার এমন বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য বলা হলেও মাওলানা সাদ উল্টো যুক্তি দেন। তারপর থেকেই মাওলানা সাদকে কেন্দ্র করে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

বাংলাদেশের কওমিপন্থি ও হেফাজতের অনুসারী আলেমরাও মাওলানা সাদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদ যেন না আসতে পারেন সেজন্য আলেমরা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেন। তাবলিগের বাংলাদেশের ১১ জন শূরা সদস্যের মধ্যে ছয় জনই আলেমদের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেন। তারপরও একটি অংশ তাবলিগের মুরব্বি ওয়াসিফুল ইসলামের নেতৃত্বে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ প্রসঙ্গে তাবলিগ কর্মী শাহরিয়ার বলেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ী মাদ্রাসায় তাবলিগের শুরা উপদেষ্টা, শুরা সদস্য ও ভারতে সফরকারী প্রতিনিধি দলসহ ২১ জনের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সবাই সা’দের বিপক্ষে মত দিয়েছেন। এরপরও মাওলানা সা’দ বাংলাদেশে আসলে তাবলিগের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।’

রবিউল ইসলাম (রবি)