আগামীকাল শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা, দলে দলে আসছেন মুসল্লিরা

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- দেশ বিদেশের লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখর হওয়ার অপেক্ষায় এখন টঙ্গীর তুরাগ তীর। এর মধ্যেই ইজতেমা ময়দানে সমবেত হয়েছেন হাজারো মুসল্লি। সম্পন্ন হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। ইজতেমা ময়দানকে ঘিরে নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার ৫৩ তম আসরের প্রথম পর্ব আগামীকাল শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব।

১৬০ একর জমির ওপর নির্মিত সুবিশাল প্যান্ডেল, খুঁটিতে নম্বর প্লেট ও খিত্তা নম্বর বসানো হয়েছে। বিদেশি, জুড়নেওয়ালি জামাত, তাশকিল, মাস্তুরাত কামরাও প্রস্তুত। প্রস্তুত ওজু-গোসলের স্থানসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই। মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো মাঠে শব্দ প্রতিধ্বনিরোধক দুই শতাধিক ছাতা মাইকসহ প্রায় ৪শ’ মাইক লাগানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদে ৭টি ভাসমান পন্টুন নির্মাণ করেছেন।

ইজতেমা উপলক্ষে সাত স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মিয়ানমারের নাগরিক অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের ময়দানে আসা-যাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা আরোপ করা হয়েছে। তাদের ব্যাপারে বিশেষ নজরদারি রাখার নির্দেশ রয়েছে।

এদিকে ইজতেমায় যোগ দিতে মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কাকরাইল শূরা কার্যালয়ে পৌঁছেছেন। তবে তার অংশগ্রহণ ঠেকাতে মুসল্লিদের একটি অংশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিদের একটি পক্ষ যে কোনো মূল্যে মাওলানা সাদের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি পক্ষ মাওলানা সাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চালাচ্ছে। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধিতার মধ্যে সাধারণ মুসল্লিরা পড়েছেন অস্বস্তি ও শঙ্কায়। তবে সংকট নিরসনে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বি প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, ইতোমধ্যে ইজতেমা ময়দানের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনসহ সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপ সন্তোষজনক। এবার প্রথম পর্বে ঢাকা, পঞ্চগড়, নীলফামারী, শেরপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাইবান্ধা, নাটোর, মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর, ঝালকাঠি, ভোলা, মাগুরা ও নোয়াখালী। এসব এলাকার মুসল্লিরা ময়দানে তাদের জন্য নির্ধারিত ২৮টি খিত্তায় অবস্থান করবেন।

মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ইজতেমা ময়দানে জায়গা কম থাকায় ২০১৬ সাল থেকে ৬৪ জেলার মুসল্লিদের ৩২ জেলা করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এই ৩২ জেলার মুসল্লিদের মধ্যে আবার ১৬ জেলা করে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিবছর ১৬ জেলা করে দুই ধাপে ৩২ জেলার মুসল্লিরা অংশ নেন এই বিশ্ব ইজতেমায়। এবার দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হবে ১২ জানুয়ারি শুক্রবার। আখেরি মোনাজাত হবে ১৪ জানুয়ারি।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি