প্রথমবার রোহিঙ্গা হত্যার স্বীকারোক্তি মিয়ানমার সেনাপ্রধানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- রোহিঙ্গা হত্যাকান্ডের বিষয়ে এই প্রথম স্বীকারোক্তি দিলেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং। গতকাল বুধবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। তবে বরাবরের মতোই রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি জঙ্গি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। খবর এএফপির।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইয়াংয়ের ফেসবুক পেজে বলা হয়, রাখাইনের রাজধানী সিত্তে থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে ইন দিন গ্রামে সন্ধান পাওয়া গণকবরে ১০ জনের লাশ ছিল। গ্রামের কিছু বাসিন্দা ও সেনাসদস্যদের হাতে তারা প্রাণ হারিয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর তাদের হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

গত ১৯ ডিসেম্বর ওই গণকবর আবিস্কৃত হয়। তখন সেনাবাহিনী জানায়, অজ্ঞাতপরিচয় লোকজনের একটি গণকবর আবিস্কৃৃত হয়েছে। লোকজনকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে- এমন রিপোর্ট পাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় তদন্ত চালিয়ে গণকবরের সন্ধান পায়।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে নির্বিচারে রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে গত কয়েক মাসে সাড়ে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের শত শত গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। শত শত নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে তাদের উৎখাত করার অস্ত্র হিসেবে। জাতিসংঘ সেনা অভিযানকে আখ্যা দিয়েছে জাতিগত নিধন বলে। তবে সেনাবাহিনীর গণহত্যা বা জাতিগত নিধন অভিযানের কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির সরকার।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি