বছরের শুরুতেই ব্যাপক পরিবর্তন আনছে ফেসবুক

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক- ফেসবুকে যে এ বছরই বড় পরিবর্তন আসবে—এমন আভাস আগেই দিয়েছিলেন এর সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ। এ বছর তাঁর চ্যালেঞ্জ ফেসবুককে ‘ঠিক’ করার। শুরুতেই ব্র্যান্ড, ব্যবসা ও মিডিয়ার পেজগুলোর জন্য বড় ধাক্কা দিলেন। এ ধরনের পেজগুলো এখন গুরুত্বহীন হয়ে যাবে। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বন্ধুদের দেওয়া স্ট্যাটাস, মন্তব্য, ভিডিও। ফেসবুকের হঠাৎ কী হলো?

সম্প্রতি ফেসবুকের গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ ফেসবুকে সময় কাটাতে এসে অহেতুক বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন খবরের ভারে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তাছাড়া ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট যতই শিক্ষামূলক বা বিনোদন ভরপুর হোক না কেন, সেটা ব্যবহারকারীদের আরও একাকী করে তোলে। তাই ফেসবুক এমন একটি নিউজ ফিড আনার চেষ্টা করছে যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের বন্ধু, পরিজন ও বিভিন্ন গ্রুপে মানুষের সাথে আরো বেশি ব্যক্তিগত যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে।

বৃহস্পতিবার বিকালে ফেসবুক সিইও মার্ক জাকারবার্গ এক ফেসবুক পোস্টে তার এ নতুন পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, আপনি যাতে যথাযথ কনটেন্ট খুঁজে পেয়ে অনেক বেশি অর্থবহ সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যে রিসার্চের উপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে ফেসবুক যে ধারনার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে তা নড়বড়ে হয়ে যাবে। কিন্তু কিছু করার নেই। তিনি ব্যবহারকারীরা যাতে যতটুকু সময়ই ফেসবুকে কাটান সেটি যেন অনেক ভালোভাবে কাটান সে প্রত্যাশা করেন।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ফেসবুক যেন মানুষ শুধুই মজা করার জন্য ব্যবহার না করেন, মানুষের সত্যিকারের ভালো যাতে ফেসবুকের মাধ্যমে হয় সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। তবে ফেসবুকের এ নতুন নিউজ ফিড পুরোপুরিভাবে কার্যকর হতে আরো কয়েক মাস লেগে যাবে।

ফেসবুকে আসন্ন এমন পরিবর্তনকে বেশ “গুরুত্বপূর্ণ” হিসেবে ইতোমধ্যে আখ্যায়িত করেছে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। পরিবর্তনের দিকে কড়া নজরও রাখছেন তারা।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়েম্যান জার্নালিজম ল্যাবের শিক্ষক লরা হ্যাজার্ড বিবিসিকে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটা অবশ্যই একটি গুরুত্বপুর্ণ পরিবর্তন। এর কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানেই প্রভাব পরবে। আমাদের ফেসবুক ব্যবহারে হঠাত করেই বিজ্ঞাপন বা অন্য কিছু উঠে আসবে না”।

তবে নতুন নিউজ ফিডে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আসবে অথবা নতুন অ্যালগারিদমে নিউজ ফিডের অবস্থা কেমন হবে তা এখনও ধোয়াশাই হয়ে আছে।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি