শেষ পর্যন্ত ঢাকা ছাড়লেন মাওলানা সা’দ

রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার- তাবলীগ জামাতের একাংশের এবং কওমি মাদরাসার আলেম ও শিক্ষার্থীদের বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত ঢাকা ছাড়তে হল দিল্লির নিজামুদ্দিন তাবলিগের মুরব্বি মাওলানা সা'দ কান্ধলভির। তার সঙ্গে ফিরে গেছেন ওই মারকাজ থেকে আসা ১০ জনের জামাতও।

শনিবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে তিনি ঢাকা ছেড়ে যান। তাবলিগ ও বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শনিবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জেট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকা ছাড়েন মাওলানা সা’দ।

টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দেয়ার উদ্দেশ্যে বুধবার দুপুরে তিনি ঢাকায় আসেন। সেদিন তার আগমনের বিরোধিতা করে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ করেন সা’দ বিরোধী তাবলিগকর্মী ও কওমি আলেমরা। এই কয়েকদিন মাওলানা সা’দ রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে অবস্থান করেছেন। শুক্রবার তিনি এই মসজিদে জুমার নামাজে বয়ান করেন।

কাকরাইল মসজিদ ও মারকাজের (বাংলাদেশে তাবলিগের প্রধান কেন্দ্র) উচ্চপর্যায়ের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি গতকাল বলেন, যাওয়ার আগে মাওলানা সাদ ইজতেমা উপলক্ষে ঢাকায় আসা বিভিন্ন দেশের তাবলিগ জামাতের আমির ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ সভা করেন। সভায় বিভিন্ন দেশে তাবলিগ জামাতের দাওয়াতি কার্যক্রম ও তাবলিগ পরিচালনায় মজলিশে শুরা গঠন এবং আগামী বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঠিক করা হয়।

তিনি বলেন, এদিন কাকরাইল মসজিদে জুমার নামাজের আগে তিনি বয়ান ও নামাজ শেষে দোয়া পরিচালনা করেন তিনি। এতে তিনি তার পূর্বে দেওয়া তার বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন বলে জানান।

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বয়ানে মাওলানা সা’দ বলেন, ‘কোনও সময় যদি আামাদের ওলামায় কেরাম কোনও কারণে ভুল ধরেন, আমরা মনে করবো, ওনারা আমাদের ওপর এহসান করেছেন, ওনারা আমাদের মোহসেন। ওলামায় কেরাম যে কথা বলবেন, তাতে আমাদের সংশোধন হবে ইনশাল্লাহ। এজন্য ওলামাদের কাছ থেকে আমরা লাভবান হবো। ওনারা কোনও ভুল ধরলে আমরা সংশোধন হবো। ’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কাজ হলো বয়ান করা। বয়ানে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। আমি সবার সামনে রুজু (বর্তমান অবস্থান থেকে সরে আসা) করেছি। কোনও কথায় যদি দোষ হয়, এটা থেকে আমি রুজু করতেছি, আগেও করেছি, এখনও করছি।

প্রসঙ্গত, ‘তাবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’ মূলত মাওলানা সা’দের এমন বক্তব্যের জের ধরে বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে রাজধানীতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়।

বিক্ষোভের মধ্যেই ১০ জানুয়ারি মাওলানা সা’দ বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিক্ষুব্ধরা মাওলানা সাদ ও তার সফরসঙ্গীদের বিমানবন্দর থেকে দিল্লিতে ফেরত পাঠানোর দাবি জানায়।

পরে তারা খবর পায় মাওলানা সাদ বিমানবন্দর থেকে তাবলিগ জামাতের কেন্দ্রস্থল কাকরাইল মসজিদে চলে গেছেন। এরপর আন্দোলনকারীরা মাওলানা সাদকে ভারতে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত কাকরাইল মসজিদ ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করে।

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তাবলিগ জামাতের বিবদমান দু’পক্ষ এবং দেশের জ্যেষ্ঠ কওমি আলেমদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় তাবলীগ জামাতের মুরুব্বি মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্দালভি এবার বিশ্ব ইজতেমায় যাবেন না। ইজতেমা চলাকালে তিনি কাকরাইল মসজিদে অবস্থান করবেন এবং সুবিধা মতো সময়ে তিনি দেশে ফিরে যাবেন। অবশেষে বিরোধিতার মুখে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ না নিয়েই ফিরে গেলেন মাওলানা সা'দ।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি