বিয়ে বাড়িতে উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাক-
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গোপীবাগে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে বিয়ে বাড়ির লোকজনের অতর্কিত হামলায় মৃত্যু হয়েছে নাজিমুল হক নামের এক ব্যক্তির । মৃত নাজিমুল হক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং সম্প্রতি ‘বাইপাস সার্জারি’ হয়েছিলো তাঁর।

প্রত্যক্ষ্যদর্শিরা জানিয়েছেন,ভবনটির ৮ তলার ছাদে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে উচ্চশব্দে বাজানো হচ্ছিল গান। ওই ভবনের অষ্টম তলার বাসিন্দা নাজিমুল হকের (৬৫) গানের শব্দে সমস্যা হচ্ছিল। নাজিমুলের ছেলে নাসিমুল ছাদে গিয়ে বিষয়টি জানালে বিয়ের বর ও স্বজনদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ শুক্রবার সকালে বর ও বরের স্বজনরা বাবা নাজিমুল, তাঁর ছেলে নাসিমুলকে ডেকে নিচে নিয়ে যান। এরপর শুরু হয় মারধর। বিয়ে বাড়ির লোকজনের মারধরে প্রাণ হারান নাজিমুল হক। নাজিমুল হক সর্বশেষ ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে অবসর নেন।

নাসিমুলের স্ত্রী সাদিয়া আফরিন জানান, চার বছর আগে তাঁর শ্বশুরের ‘বাইপাস সার্জারি’ হয়। এরপর থেকেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। ওই ভবনের ৮ তলায় থাকেন তাঁরা। ছাদে বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হচ্ছিল হৃদয় নামে এক যুবকের, যার চাচা আলতাফ হোসেন নামে এক ব্যক্তি। ওই অনুষ্ঠানে গানবাজনা হচ্ছিল। তিনি আরো জানান, ছাদের গানবাজনার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন নাজিমুল।

নাজিমুলের মেয়ে নাফিসা জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর বাবাকে আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পথেই মারা যান তিনি। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় ১০ মিনিট আগেই তিনি মারা গেছেন।

নাফিসা জানান, আজ সকালে ভবনের তত্ত্বাবধায়কের (কেয়ারটেকার) মাধ্যমে তাঁর বাবা ও ভাইকে নিচে ডেকে নিয়ে যান বর ও বরের স্বজনরা। এ সময় নিচে নামেন নাজিমুল হক, নাসিমুল হক ও নাসিমুলের স্ত্রী সাদিয়া। এ সময় নাসিমুল হকের ওপর হামলা করেন বর ও বরের স্বজনরা। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে প্রায় ১০/১২ জন মিলে হামলা করে নাজিমুলের ওপর। ছয়জন পুরুষ ও চারজন নারী মিলে একযোগে হামলা চালায় তাঁর ওপর।

ওয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম মিয়া জানান, উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে বিয়ে বাড়ির লোকজনের অতর্কিত হামলায় মৃত্যু হয় নাজিমুল হকের। এ বিষয়ে থানায় মামলা করবেন নিহতের ছেলে নাসিমুল হক। মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

সেলিম মিয়া আরো জানান, ঘটনার সময় ভবনের ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে মারধরের ঘটনা দেখা গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় কয়েকজনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।