চট্টগ্রাম আবাসন কেন্দ্র থেকে দুঃসাহসিক কায়দায় গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া আরও এক কিশোরী উদ্ধার

চট্টগ্রাম- চট্টগ্রামের মহিলা ও শিশু-কিশোরী নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র থেকে পলায়নকৃত আট কিশোরীর মধ্যে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার টুমচর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

তার নাম তুহিন আক্তার পিনু। সে সদর উপজেলার শাহীন আলমের মেয়ে।

লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লোকমান হোসেন জানান, চট্টগ্রামের সেইফ হোমে বিভিন্ন মামলায় অবস্থানরত হেফাজতিদের মধ্যে আটজন গত নয় জানুয়ারি গভীর রাতে গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়।
এখনো নিখোঁজ থাকা কিশোরীরা হলো— ময়না, জান্নাতী, আরিফা ইসলাম, লিজা আকতার, দিলরুবা সিদ্দিকা পাখি ও লিজা মণি। পালিয়ে যাওয়া সুমাইয়া (১৯) নামের এক তরুণীকে বুধবার সকালে স্থানীয় বাজার নূর আলী মিয়ার হাট থেকে জনতা আটক করে সেফ হোমের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করে। আটজন পালালোও দুজনকে আটকের পর এখনো নিঁখোজ আছে ছয়জন।

বৃহস্পতিবার গোপন খবরের ভিত্তিতে পিনু নামের ওই কিশোরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে পুনরায় কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলেও জানান ওসি।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে থাকা সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত চট্টগ্রাম বিভাগের একমাত্র মহিলা ও শিশু কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র (সেফ হোম) থেকে সাত কিশোরী পালিয়ে গেছে।

চট্টগ্রামের মহিলা ও শিশু-কিশোরী নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র

এর আগে গেলো নয় জানুয়ারি চট্টগ্রামের হাটহাজারী পরহাদাবাদ এলাকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন মহিলা ও শিশু-কিশোরী নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র থেকে ওই কিশোরীসহ আটজন পালিয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে সেফ হোমের খাবার কক্ষের পেছনের গ্রিল ভেঙে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘটনার দিন কর্তব্যরত আনসার সদস্যের অবহেলার কারণেই কিশোরীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

পালিয়ে যাওয়া আট কিশোরীর বয়স ১২ থেকে ১৭ এর মধ্যে। বিভিন্ন মামলার ভুক্তভোগী হিসেবে আদালতের নির্দেশে তারা এ সেফ হোমে ছিল। এখানে মোট ৫৬ জন হেফাজতি মহিলা ও শিশু ছিল।

এ ঘটনার পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন— সমাজ সেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, অতিরিক্ত পরিচালক বন্দনা দাশ ও উপ-পরিচালক শহীদুল ইসলাম। এদের কারও বাড়ি নোয়াখালী; কারও বা আবার কুমিল্লায়।

তদন্ত কমিটির প্রধান সমাজ সেবা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, 'প্রাথমিকভাবে আনসার সদস্যের গাফিলতি পেয়েছি আমরা। তদন্ত কমিটি পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।'

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউর দৌলা রেজা বলেন, 'পালিয়ে যাওয়া কিশোরীদের সবাইকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাদের উদ্ধারে হাটহাজারী থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।'

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাত ২টা পর্যন্ত একজন আনসার সদস্য ডিউটিতে ছিলেন। ডিউটি শেষে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টা থেকে যে আনসার সদস্যের ডিউটি ছিল তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় হেফাজতিরা কেন্দ্রের রান্না ঘরের পেছনের জানালার লোহার গ্রিল ধাক্কা দিয়ে ভেঙে পালিয়ে যায়। গ্রিলটি মরিচা ধরে নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল।

Leave a Reply