‘প্রেমের জন্য’ প্রতিদিনই পুরো শরীর ভর্তি লোম কাটাতে হয় বিশ্ব রেকর্ড করা সেই তরুনীকে !

চিত্র কি বিচিত্র-
প্রেমে পড়লে কতকিছুই না করে মানুষ! প্রেমের জন্য চিরকালই কত বিসর্জনের গল্পই না জানি আমরা। এবার প্রেমের জন্য ব্যতিক্রমি এক উদাহারন তৈরি করলেন বিশ্বের ‘লোমশতম’  ১৭ বছর বয়সী এক তরুনী। নিঃসন্দেহে এই তরুনির প্রেম ব্যতিক্রমি কারন তার ভালোবাসার জন্য প্রায় প্রতিদিনই একবার করেপুরো শরীরের লোম কেটে ফেলতে হয় তরুনীকে ।

বিরল জিনঘটিত একটি রোগে আক্রান্ত সুপাত্রা। ডাক্তারি ভাষায় যাকে অ্যামব্রাশ সিন্ড্রোম নামে পরিচিত। এর ফলে, তাঁর মুখ, কান, হাত, পা ও পিঠে অত্যাধিক লোমে ঢাকা। মুখের মধ্যেও অবাঞ্ছিত লোমে ঢাকা ছিল। ২০১০ সালে এই কারণে বিশ্বের সবচেয়ে লোমশ কন্যে হিসেবে গিনিস বুকে রেকর্ডও গড়ে ফেলেন।

এতকাল বিশ্বের   ‘লোমশতম’ মানুষ হিসেবেই   পরিচিত ছিল সে ।নিজের এমন ‘অদ্ভুত দর্শন’ মুখায়ব নিয়ে কোন কস্ট বা ক্লেদ ছিলোনা তার। বরং এমন লোমশতম শরীর নিয়ে বেশ গর্বই করতেন তরুনী। তবে এতকাল পর সে চিরাচরিত দৃশ্যপটের পরিবর্তন ঘটতে চলেছে ।

এবার প্রেমে পড়েছেন আলোচিত এই তরুনী।

পুরো শরীর ভর্তি চুল বা লোমে ভর্তি! কিন্তু তাই বলে প্রেমে পড়তে পারবেন না, এমন কথা তো কোথাও লেখা নেই। নিজের বিশ্বরেকর্ডকে তোয়াক্কা না করেই মুখভর্তি দাড়ি ছেঁটে ফেলেছেন, শুধুমাত্র ভালোবাসার মানুষটির জন্য।

তার নাম সুপাত্র সুসুফান। এক সময় তিনি গিনেস বুকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে চুলওয়ালা মেয়ে’ হিসেবে নাম তুলেছিলেন। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আবারও শিরোনামে সুসুফান সুমাত্রা । এবার কারণটা অবশ্য ভিন্ন। বিয়ে করতে যাচ্ছেন তিনি।

এবার শুধু ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি ১৭ বছর বয়সী তরুনী । থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের এই বাসিন্দা তার চুলও ছেঁটে ফেলেছেন। ছবি তুলেছেন নিজের হবু স্বামীর সঙ্গে। আর সেই ছবি আবার সোশ্যাল মিডিয়ায়ও পোস্ট করেছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিষ্কার মুখ নিয়ে, স্বামীর সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি । যেখানে দেখা গিযেছে, মুখের মধ্যে অবাঞ্ছিত লোম ভর্তি মুখ সেভ করেছেন।

ছবি পোস্ট করে সুসুফান লিখেন, তুমি শুধু আমার প্রথম প্রেমই নও, তুমি আমার জীবনের ভালবাসা।

১৭ বছর বয়সি এই মেয়ে এখন প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন । তাই প্রেমিক তথা স্বামীর কাছে নিজেকে সুন্দর করতে, মুখের ও শরীর থেকে লোম সেভ করে ফেলেছেন। লেজার ট্রিটমেন্ট করানো হলেও, তাঁর শরীর থেকে লোম সংখ্যা একবিন্দু কমেনি।

এতকিছুর মাঝেও মন থেকে কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে রাখেননি এই তরুণী। প্রেমিকা বিরল রোগে আক্রান্ত জেনেও ভালোবাসার কমতি রাখেনি সুমাত্রার প্রেমিক । তাই সোস্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করে সুসুফান লিখেছেন, ‘তুমি শুধু আমার প্রথম প্রেম নও, তুমি আমার জীবনের ভালোবাসা।’

এর আগে সুমাত্রা  বলেছিলেন, তিনি তার এই অবস্থা নিয়ে মোটেও বিচলিত হন। চুলওয়ালা বলেই তিনি বিশেষ।

বিশ্বের সবচেয়ে চুলওয়ালা মেয়ে হিসেবে ২০১০ গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নাম ওঠে সুসুফান সুমাত্রার । সুমাত্রার চেহারা, কান, বগল, পা ও পিঠে অনেক চুল ছিল।

এমনকি লেজার ট্রিটমেন্ট দিয়েও তার চুলের এই বৃদ্ধি রোধ করা যাচ্ছিল না।  সুমাত্রার বাবা জানিয়েছেন, এখন সে প্রায় প্রতিদিনই নিয়মিত পুরো শরীর শেভ করে।