নিজের নগ্ন ছবি পোস্ট করে কৈশোরে নিকটাত্মীয়দের কাছে ধর্ষণের শিকার তরুনীর অভিনব প্রতিবাদ!

ব্যতিক্রমি গল্প-

ধর্ষণের শিকারের পর অনেকেই লোক-লজ্জার ভয়ে মামলা করেন না। কেউ বা মামলা করলেও তা যতটা সম্ভব নিজে আড়াল করেই করে থাকেন। তবে এবার কৈশরে নিজ পরিবারের সদস্যদের কাছে ধর্ষণের শিকার এক যুবতী করে দেখালেন ব্যতিক্রমি প্রতিবাদ!
একজন সাহসী তরুণীর গল্প এটি। যে কিনা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে বছরের পর বছর নিজেকে সবার থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। অবশেষে নিজ দেহের নগ্ন ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে প্রতিবাদ করেন। তরুণীর নাম সুজি লারসন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বসবাস করেন।

খবর- দ্যা ডেইলি মেইল, হাফিংটন পোস্টের।

কৈশোরে বেশ কয়েকবার ধর্ষিতা হয়েছিলেন তিনি। এরপর নানা সময়ে পরিবার ছাড়াও বন্ধু আত্মিয় নানা ব্যক্তি দ্বারা ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর তিনি প্রায় ভেঙে পড়ছিলেন। কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন।

তিনি জানান, ১৫ বছরের সময় তিনি খাবার খাওয়া এতই কমিয়ে দিয়েছিলেন যে তার ওজন কমে ৩৫ কেজির মতো হয়ে গিয়েছিল। ধর্ষণের সেই আতঙ্ক, অবসাদ ২৫ বছর বয়সে এসেও কাটিয়ে উঠতে পারেননি সুজি লারসন। সেই সুজিই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট করছেন তার নগ্ন ছবি। আর এর পেছনের কারণটাও বেশ অদ্ভুত।

ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে প্রায়শই খোলাখুলি কথা বলেন এই মার্কিন তরুণী। কিন্তু প্রায়ই তাকে শুনতে হয়, ধর্ষণের পিছনে নাকি তারই দোষ ছিল। আর সেটাই সুজির মানসিক অবসাদের কারণ।সুজি জানান, যে তিনজন তাকে ধর্ষণ করেছিল, তার দু’‌জন তারই পরিবারের সদস্য।

নিকটজনদের কাছ থেকে এমন আচরণের পর থেকেই মানসিকভাবে গুটিয়ে গিয়েছিলেন সুজি। তাকে শুনতে হতো, তিনি খোলামেলা পোশাক পরে ধর্ষকদের প্ররোচিত করেছেন। তারপর থেকে সবসময়ই বড় পোশাক পরে থাকতেন সুজি।

মানসিক অবসাদে খাওয়া-দাওয়াও প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। ফলে শারীরিক অবস্থারও ক্রমশ অবনতি হতে থাকে। এমন সময় সুজির জীবনে আসেন প্রেমিক স্যামুয়েল। তিনি সুজিকে বোঝান, ধর্ষণের সঙ্গে পোশাকের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। ক্রমে সুস্থ হতে থাকেন সুজি। মানসিক জোরও বাড়তে থাকে।

সুজি জানান, বিয়ে তার ভাগ্য পরিবর্তন করে দেয়। তার স্বামীর উৎসাহ ও ভালোবাসায় সে ফের নতুন জীবন খুঁজে পায়। তার স্বামীর অত্মবিশ্বাস তাকে বাঁচতে অত্মবিশ্বাসী করে তোলে।

শেষে অভিনব পরিকল্পনা করেন সুজি। তিনি বলেছেন, ‘‌সকলে বলত, আমি নাকি ছোট পোশাক পরে দেহ দেখিয়ে ধর্ষকদের প্রলুব্ধ করি। তাই আমি নিজের দেহ খোলাখুলিভাবে সকলের সামনে তুলে ধরলাম। সকলে দেখুক এবং বিচার করুক, আমার দেহে এমন কী আছে, যা অন্য কোনও নারীর শরীরে নেই। আমার দেহে এমন কী আছে যা ধর্ষকদের লোভাতুর করে তোলে।’‌‌

সুজি বলেন, আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল আমি আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার স্বামী সবকিছু মেনে নিয়ে আমাকে ভালোবাসতে শিখিযেছে। অথচ আমি সবাইকে নোংরা মনের মানুষ ভাবতাম।

ডেইলি মেইলে প্রকাশিত সুজির ইন্সট্রাগ্রাম লিংক

এর আগে এমনি ভাবে ধর্ষণের শিকার এক কিশোরী ব্যতিক্রমি প্রতিবাদ করে আলোচিত হয়েছিলেন মিডিয়ায়। ভারতের আসাম রাজ্যের মরিগাঁওয়ের ভুরাগাঁওএলাকার প্রতিবাদকারী কিশোরীটি দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া।

ধর্ষণের শিকার হওয়ার দীর্ঘ দিন পরও ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় নিজের মাকে নিয়ে আসামের রাজ্য সচিবালয়ের সমানে ব্যানার টানিয়ে পালন করলেন অবস্থান কর্মসূচি। ব্যানারে লেখা, ‘আই ওয়াজ রেপ্ড, আই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আর এ জন্য মা-মেয়ে দুজনকেই আটক করেছে পুলিশ।

আসামের মরিগাঁওয়ের ভুরাগাঁও থেকে মাকে নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে আসা কিশোরীটি দশম শ্রেণিতে পড়ে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে স্থানীয় মাদ্রাসার এক শিক্ষক তাকে ঘর থেকে জোর করে নিয়ে যান। কিশোরীর কথায়, ‘রাতে আমার উপরে যৌন নির্যাতন চালায় ওই শিক্ষক। এর পর কাউকে কিছু না বলে চুপ করে থাকার হুমকি দিয়ে সকালে সে আমায় বাড়ি পৌঁছে দেয়।’

কিশোরীর মা জানান, ডাক্তারি পরীক্ষায় ধর্ষণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। পরের দিন অভিযুক্তকে ধরে রাতে ভুরাগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তার পরের দিনই থানা থেকে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। এসপি ও জেলা প্রশাসককে বারবার স্মারকলিপি দেওয়ার পরেও পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেনি বলে অভিযোগ তাদের।

মা-মেয়েকে আটকের ব্যাপারে পুলিশের যুক্তি, বিধানসভা চলাকালীন প্রতিবাদ জানাবার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এর জন্য আগে থেকে অনুমতি নিতে হয়। নিয়ম না মানাতেই তাদের আটক করা হয়। ন্যায়বিচার চাইতে এসে থানায় আটক হওয়া কিশোরী কান্নায় ভেঙে পড়ে।

কিশোরীর মা বলেন, ‘বার বার জেলা প্রশাসনকে বলেও লাভ না হওয়ায় আমরা রাজ্যের কর্তাদের কানে অভিযোগ তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। আইন ভাঙার কোনও ইচ্ছেই আমাদের ছিল না। আমরা কোনও অশান্তিও করিনি।’ মায়ের প্রশ্ন’ একটি মেয়ে কতটা মরিয়া হলে নিজের লজ্জা তুচ্ছ করে ধর্ষণের মতো ঘটনার কথা পোস্টারে লিখে বিচার চাইতে পারে?’ পুলিশ পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেয়।

Leave a Reply