এমপি হোস্টেল থেকে এমপি পুত্রের গলায় ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার! নেপথ্যে অভিমান

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা-
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য,তালা-কলারোয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ ও নারী নেত্রী নাছরিন খান লিপির একমাত্র ছেলে অনিক আজিজ স্বাক্ষর (২৬) গলায় দঁড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
রবিবার ভোর রাতে এমপি’র ঢাকাস্থ বাসভবন ন্যামফ্লাটে অনিক আজিজের এ অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। অনিক একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। অনিক আজিজ ছাত্রমৈত্রী ও সাতক্ষীরায় গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম নেতা ছিলেন।

শনিবার গভীর রাতে ঢাকার ন্যাম ফ্লাটে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছেন এমপির এপিএস জাহাঙ্গীর হোসেন।

জাহাঙ্গীর হোসেন আরও জানান, ঢাকার ন্যাম ফ্লাটে অনিক, তার বোন সৃষ্টি ও ড্রাইভার ছিলেন। এমপি সাতক্ষীরায় অবস্থান করছিলেন। রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই ঘুমাতে যায়। রোববার সকালে সবাই ঘুম থেকে উঠলেও অনিক আজিজ উঠছিলেন না। অনেক ডাকাডাকি করলেও না উঠায় তার রুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখা যায় তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পরে অনিককে উদ্ধার করে সোহরাওর্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে সাতক্ষীরায় নিয়ে আসা হবে বলেও জানান জাহাঙ্গীর হোসেন। অনিক বেসরকারি ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটিতে পড়ছিলেন । তবে ঠিক কি কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা জানাতে পারেননি এমপির এপিএস।

সাতক্ষীরা জেলা যুবমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক মফিজুল হক জাহাঙ্গীর জানান, তিনি শনিরাব রাতে সাতক্ষীরা থেকে বের হয়ে রবিবার ভোরে ঢাকায় পৌছান এবং অনিকের রুমের দরজায় খোলার জন্য ডাকাডাকি করেন। কিন্তু দরজা না খোলায় কৌশলে দরজা খুলে অনিক আজিজের মৃত দেহ দেখতে পান তিনি। তার এ অকাল মৃত্যুতে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লাশের ময়না তদন্ত শেষে হেলিক্যাপ্টার যোগে সাতক্ষীরায় আনা হবে। আজ রবিবার বাদ মাগ‌রিব সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, রবিবার ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে পাঁচ নম্বর ন্যাম ভবনের ৬০৪ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচানো অবস্থায় অনিক আজিজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অনিকের পরিবারিক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গতকাল রাতের কোনো এক সময় পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে অনিক আত্মহত্যা করেছেন। তার বাবা সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

অনিক আজিজের কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন এমন প্রশ্নে শফিকুল ইসলাম বলেন, মাত্র মরদেহ নামিয়েছি। সেটিও সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মর্গে পাঠানো কাজ করছি। বিস্তারিত জানতে আরো সময় লাগবে।’
পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠাচ্ছে।

Leave a Reply