বার বার কন্যা সন্তান হওয়ায় দেড় মাসের সন্তানকে হত্যা করল বাবা

আব্দুল লতিফ রঞ্জু,পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে দেড় মাসের সেই কন্যাশিশুর খোঁজ মিলেছে। শনিবার রাতে নিজ বাড়ির আলমারি থেকে নিথর শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা, দাদা ও দাদিকে আটক করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, শিশু আতিকা জান্নাতকে চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে বাবা আশরাফুল ইসলামের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক ছিল।

রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঈশ্বরদী থানার পুলিশ আশরাফুলের ঘরের আলমারি থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। প্রতিবেশী কাউকে ফাঁসাতে কিংবা বার বার কন্যা সন্তান হওয়ায় এবং শারীরীক ভাবে অস্বাভাবিক ভাবে জন্ম নেয়ায় এমন ঘটনা আশরাফুল শিশুটিকে নিয়ে করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তাঁকে আটক করা হয়েছে।ওসি আজিম উদ্দিন জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশের খাওয়া ও বিশ্রাম বন্ধ হয়ে যায়। পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরের নির্দেশে পুরো জেলায় পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি চালায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ আবার শিশুটির বাড়িতে যায়। এ সময় আশরাফুল পুলিশের হাতে একটি চিরকুট দেখিয়ে বলেন, কে যেন তাঁর বাড়িতে এটি ফেলে রেখেছে। চিরকুটে লেখা ছিল ‘শিশু আতিকাকে ঘরের আলমারিতে রাখা হয়েছে।’

পুলিশ আলমারি খুলে দেখে, একটি কাপড়ে জড়ানো রয়েছে শিশুটি। তবে তাকে মৃত পাওয়া যায়। আশরাফুলকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শনিবার দুপুরে শহরের অরনকোলা এলাকায় আশারাফুলের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর শিশুকন্যা চুরি হয়েছে বলে পুলিশকে তিনি জানান। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( ঈশ্বরদী সার্কেল ) মো. জহুরুল হক জানান, পর পর কন্যা শিশুর জন্ম, আগের ১ বছরের একটি কন্যা শিশু ৭ মাসে ভূমিষ্ট হওয়া আতিকার জন্মকে আনন্দহীন করে তোলে। তাই বাবা, দাদা ও দাদী কৌশলে বাচ্চার মাকে ছাদে পাঠিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে শারীরিক ভাবে অস্বাভাবিক দেড় মাসের কন্যাকে শ্বাস রোধে হত্যা করে আলমারীতে রেখে দেয় এবং বাচ্চার মা এসে বাচ্চাকে না পেলে, সবাই প্রতিবেশীকে দায়ী করে তার কন্যা শিশু হারানোর জন্য।