খাগড়াছড়ি-চট্রগ্রাম সড়কে শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ঘটছে দূর্ঘটনা

মো: আবদুর রউফ, খাগড়াছড়ি থেকে: একসময়ের পশ্চাৎপদ খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা এখন সারাদেশে উন্নয়নের রুল মডেল। পার্বত্য চট্রগ্রাম চুক্তি সম্পাদনের পরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে এই জনপদে।

যার অনেকটা সম্ভব হয়েছে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে। খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে দিন রাত সড়কপথে যানবাহন চলাচল করছে ঢাকা, চট্রগ্রামসহ সারাদেশে। কিন্তু অনেক আগের ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। যার মূলকারণ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। খাগড়াছড়ি-চট্রগ্রাম-ঢাকা সড়কে চট্রগ্রামের সীমান্তবর্তী ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চনপুর রাবার বাগান ও ভূজপুর এলাকা পর্যন্ত দুই শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে।

সম্প্রতি খাগড়াছড়ি-চট্রগ্রাম সড়কে মানিকছড়ির গাড়িটানা পর্যন্ত সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ৭০ কিলোমিটার দূরত্বে ২’শ এর অধিক বাঁক রয়েছে। বাঁকের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে কোথাও কোথাও ঝোপঝাড় ও খাদ রয়েছে। কোথাও কোথাও ঝোপের কারণে একপাশ থেকে অন্য পাশ দেখা যাচ্ছে না।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের জিরো মাইল, মাটিরাঙ্গার আলুটিলা, দূর্গাবাড়ি, মুসলিমপাড়া, বাইল্যাছড়ি, গুইমারার বুদ্ধংপাড়া, জোড়া ব্রীজ, জালিয়াপাড়া মিশন এলাকা, মানিকছড়ির কালাপানি, ওসমানপল্লী এলাকার সড়ক বাঁকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রতিনিয়ত এসব বাঁকে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারী মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা এলাকায় পাহাড়ি বাঁকের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৌদ্ধ মন্দিরের পূর্ণ্যার্থীদের ওপর ট্রাক চাপা ঘটনায় ৮জন নিহত ও ১০ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতায় দিন দিন বাড়ছে মৃত ও ক্ষতিগ্রস্থের সংখ্যা।

খাগড়াছড়ি-চট্রগ্রাম সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী ট্রাক চালক মো: জাহাঙ্গীর, ফিরোজ, বাস চালক মো: জাকির হোসেন, কার চালক রাসেল জানান, খাগড়াছড়ি-চট্রগ্রাম সড়কের বাঁকগুলো ও সড়কের পাশে থাকা ঝোপঝাড় এবং খাদগুলো আরো ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।

অসাবধানতাবশত কোন চালক যদি হরণ দিয়ে না আসে অনেক সময় বাঁকগুলোতে দূর্ঘটনা ঘটে। এ সংখ্যায় বাইরের চালকরাই বেশী। কারণ একে পাহাড়ী রাস্তা ও অনেক বাঁকে সর্তক বার্তা না থাকায় এমন ঘটনা ঘটে।

খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক এসএম শফি বলেন, খাগড়াছড়ি জেলার সাথে অন্যান্য জেলা ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের সংখ্যা অগণিত। পর্যটন শহর হিসেবে খাগড়াছড়ি জেলার সারাদেশে সমাদৃত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এ জেলায় সড়ক যোগাযোগ হচ্ছে।

কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়ের কারণে বাইরের চালকরা অনেকসময় দূর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের ভৌত অবকাঠামো সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ (সওজ) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোসলেহ্ উদ্দিন বলেন, সওজ’র আওতাধীন সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বের পাশাপাশি সড়কের দু পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হচ্ছে। এটি একটি চলমান উদ্যোগ। এছাড়া স্বল্পসময়ের মধ্যে সড়ক সম্প্রসারণের কাজও শুরু হওয়ার কথা জানান তিনি।

Leave a Reply