মায়ের সাথে পরকীয়ায় জের ধরে মেয়েকে হত্যা

এম এ হাকিম ভূঁইয়া,আড়াইহাজার প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার গোপালদীর ইসলামপুরে মাদ্রাসা ছাত্রী সুরাইয়া আক্তারকে (৮) শ্বাসরোধে হত্যার পেছনে ছিল তার মায়ের সাথে অন্যপুরুষের পরকীয়া প্রেমের জের। পুলিশ ঘটনার দিনই সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে।

তিনদিনের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা প্রাথমিকভাবে হত্যার দায়স্বীকার করেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়ার জন্য ইলিয়াছ এবং সোহাগ নামে দুইজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে নিহতের বাবা অহিদ মিয়া বাদী হয়ে শুক্রবার পাঁচ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। সুরাইয়া স্থানীয় নূরানী মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

আটককৃতরা হলো স্থানীয় গায়েনপাড়া গ্রামের তোঁতা মিয়ার ছেলে কবির হোসেন, তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম, ছেলে ইলিয়াছ এবং ছেলের বন্ধু সোহাগ। সোহাগ স্থানীয় দয়াকান্দা গ্রামের শাহজাহানের ছেলে।

জানা গেছে, জানান, গায়েনপাড়া গ্রামের তোঁতা মিয়ার ছেলে কবির হোসেন গোপালদী বাজারে কাঁঠমিস্ত্রির কাজ করেন। বাজারে আসা যাওয়ার মাঝে ইসলামপুর গ্রামের অহিদের সাথে কবিরের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। বন্ধুত্বের সুবাদেই কবির নিয়মিত অহিদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

এক পর্যায়ে তার স্ত্রী রহিমা বেগমের সাথে পরোকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কবিরের স্ত্রী ফাতেমা ও তার ছেলে ইলিয়াছের সঙ্গে অহিদের স্ত্রীর ঝগড়াঝাটি হয়। প্রতিশোধ নেয়ার জন্য তারা অহিদের মাদ্রাসায় পড়–য়া মেয়ে সুরাইয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

আড়াইহাজার থানার ওসি এম এ হক জানান, মায়ের পরোকীয়া প্রেমের জের ধরে মেয়ে সুরাইয়া আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। দুইজনের জবানবন্দী রেকর্ড করার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ৭ তারিখ বিকালে বাড়ির পাশের বালু মাঠে সুরাইয়া খেলতে গেলে তাকে খেলনা দেওয়ার কথা বলে গোপালদী নজরুল ইসলাম বাবু কলেজের পেছনে কুদ্দুছের পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে হাত-পাঁ ঘরের পিলারের সাথে বেঁধে রাখা হয়। ১৯ জানুয়ারী স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে শিশুর অর্ধগলিত উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে।

Leave a Reply