প্রধানমন্ত্রীকে বারণ করুন: ইসিকে মওদুদ

সময়ের কণ্ঠস্বর: বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠেয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৩০ জানুয়ারি হযরত শাহাজালালের (র.) মাজার জিয়ারত ও সিলেটে জনসভার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন বলে রোববার একটি দৈনিকে খবর প্রকাশ হয়েছে।

বিকালে এক আলোচনা সভায় ওই প্রতিবেদনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ বলেন, “সাধারণত তফসিল ঘোষণার পরে আমরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করি আনুষ্ঠানিকভাবে। কখন নির্বাচন হবে আমরা জানি না কেউ। এখনও ১০ মাস বাকি আছে। ১০ মাস আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে প্রচারাভিযান করবেন। আমাদেরকে বন্দি রেখে…।

“এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের উচিৎ হবে প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারি দলকে বলা যে, এখন নির্বাচনী প্রচারাভিযানে যাবে না। আর যদি না বলেন তাহলে নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে হবে।”

নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীনদের এই বার্তা দিতে না পারলে তাদের যে দুর্বলতা ও পক্ষপাতের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে তা বাংলাদেশের মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনী প্রচার চালানোর সুযোগ করা হলে তা সব দলের জন্য হতে হবে বলে দাবি করেন মওদুদ।

“আর যদি আমাদের করতে না দেন, তাহলে আপনাদেরও কোনো অধিকার নেই এই প্রচারাভিযান শুরু করার। এই নির্বাচন কমিশন যদি এটা বন্ধ না করে তাহলে নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে হবে, এই কমিশনের আমরা অপসারণ চাই। এই দুর্বল কমিশন দিয়ে আগামী দিনে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভবপর হবে না।”

একতরফা নির্বাচনী প্রচার চালালে তা ‘কাপুরুষতাকে’ প্রকাশ করবে মন্তব্য করে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্যে মওদুদ আহমদ বলেন, “বিরোধী দলকে বন্দি রেখে আপনারা (আওয়ামী লীগ) নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন, মানুষের কাছে ভোট চাইবেন। আমাদের ভোট চাওয়ার সুযোগ দিন, এখনই দিন।

“তাহলেই বুঝব যে, আপনারা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং সকলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি নির্বাচন চান।”

‘লাস্ট অ্যান্ড ফাইনাল’

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সমঝোতায় আসতে সংলাপে বসার জন্য আওয়ামী লীগের প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন মওদুদ আহমদ।

অন্যথায় পরিণতি ভালো হবে না বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, “যতই অত্যাচার-নির্যাতন করেন না কেন, যতই মামলা-হামলা দেন না কেন, যতই আমাদের নেত্রীকে অবরুদ্ধ রাখার ব্যবস্থা করেন না কেন, এমন একদিন আসবে যেদিন আপনারা বাধ্য হবেন জনগণের এই দাবি মেনে নিতে। আমাদের নেত্রী এসব পরোয়া করেন না।”

চার বছর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল এবং তারপরে সরকার পতনের দাবিতে আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি এবার সময় বুঝে চূড়ান্ত কর্মসূচিতে যাবে বলে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের এই সদস্য জানানভ

“এই কর্মসূচি হবে লাস্ট অ্যান্ড ফাইনাল কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। আমি আশা করি, সেই জোয়ারে নৌকা ভেসে যাবে, আন্দোলনের মাধ্যমে তাদেরকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে,” বলেন মওদুদ।

জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের জুয়েল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীর মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে

এই সভা হয়। অনুষ্ঠানে সদ্য কারামুক্ত নেতা রফিক হাওলাদারকে ফুল দিয়ে বরণ করেন বিএনপি নেতা মওদুদ।

সংগঠনের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী বাবু, মীর সরফত আলী সপুসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply