পাষণ্ডতার ইতিহাসে নির্মম সাক্ষী হলো ঈশ্বরদী! শত্রুপক্ষকে ফাঁসাতে দেড় মাসের শিশুকে নির্মম হত্যা!

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঈশ্বরদী সংবাদদাতা-
প্রতিবেশীদের সাথে পারিবারিক ও বৈষয়িক নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিলো আইয়ুব আলীর পরিবারের। শত্রুকে শায়েস্তা করবার মোক্ষম সুযোগই খুজছিলেন হয়তো তারা অনেকদিনধরে । অবশেষে সেই বিরোধে নির্মম বলি হলো মাত্র দেড় মাস বয়সী নিস্পাপ এক শিশু কন্যা!
এরচেয়েও ভয়ানক সত্যি হলো তবে অন্যসব ঘটনার মত এদফায় শত্রুপক্ষের হাতে খুন হয়নি নিস্পাপ ঐ শিশুটি !

ভয়ংকর এক অশনিসংকেত দিয়েই বেরিয়ে এলো নির্মম সত্যিটা । সবাইকে রীতিমত হতবাক করে দিয়েছে ঐ পাষণ্ড পরিবারের নির্মমতার ঘটনা।
শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিকল্পিতভাবে দেড় মাসের শিশু কন্যা আতিকা জান্নাতকে হত্যা করে চুরির নাটক সাজিয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীকে বোকা বানাতে চেয়েছিল শিশুটির জন্মদাতা বাবাসহ শিশুটির দাদা ও দাদি।

পরিকল্পনা মতো হত্যা শেষে শিশুটিকে হন্যে হয়ে খোজার নাটকও বেশ জমিয়েছিলো পাষণ্ডের দল।
কিন্তু নির্মম সত্যিটা চাঁপা থাকেনি বেশিক্ষন। ঈশ্বরদী পুলিশের তৎপরতায় বের হয়েছে আতকে উঠবার মতই ঘটনা। ২৪ ঘন্টা না পেরুতেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় শিশুটির বাবা খান মো. আশরাফুল ইসলাম, দাদা মো. আইয়ুব আলী খান, দাদী সেলিনা খান ও শিশুটির বাবার মামী জোস্না খাতুনকে। গতকাল রবিবার ঈশ্বরদী থানা থেকে আসামিদের পাবনা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের বরাত দিয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানিয়েছেন, শিশুটি আদৌ চুরি হয়নি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার অপরাধ - সে ছিল কালো, অপরিপুষ্ট। জন্মের পর থেকেই শিশুটি নাকি চক্ষুশুল ছিলো তাদের।
এরপরই পরিকল্পনার ছক কষে তারা।

শনিবার ‘চুরি হওয়া’ শিশুকে খুঁজে পেতে মাইকিং চলে। রাত ১১টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঈশ্বরদীর কলেজ রোড এলাকার অরনকোলায় অবস্থিত তাদেরই ঘরের আলমারি থেকে কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

ইনসেটে - ডান থেকে উপরে শিশুটির পাষণ্ড বাবা খান মো. আশরাফুল ইসলাম, বামে- দাদা মো. আইয়ুব আলী খান, নিচে বায়ে- দাদী সেলিনা খান ও ডানে শিশুটির বাবার মামী জোস্না খাতুন

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দীন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, শিশুটির বাবা, দাদা ও দাদিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন।
তারা জানান, শনিবার শিশু আতিকার মা নিশি খাতুন তার বড় মেয়েকে নিয়ে ছাদে ভেজা কাপড় নেড়ে দিতে ও রোদ পোহাতে গেলে এই ফাঁকে পরিকল্পনা অনুযায়ী শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে তাকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে ঘরের আলমারিতে লুকিয়ে রাখে দাদি। তারপর তিনি ও নিহত আতিকার দাদা হাসপাতালে যান। খবর দেন ছেলে আশরাফুলকে।
এর মধ্যে আতিকাকে পাওয়া যাচ্ছে না এই খবরে দুপুর ১২টার দিকে সবাই বাসায় ফিরে আসে এবং বাচ্চা চুরির জন্য প্রতিবেশীকে দায়ী করতে থাকে। চলতে থাকে হারিয়ে যাওয়া শিশুর খোঁজ। পুলিশের তত্পরতাও চলতে থাকে। ঘটনার এক পর্যায়ে পুলিশের ওই পরিবারটিকেই সন্দেহ হয়। বাড়িতে বসানো হয় সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারা। চলতে থাকে কৌশলে জিজ্ঞাসাবাদ। এরই এক পর্যায়ে রাত ১০টার দিকে বাড়ির আলমারি থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।

Leave a Reply