খালেদা জিয়াকে 'অহমিকা' ত্যাগের আহব্বান জানালেন ডা. জাফরুল্লাহ

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা-

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগ খালেদা জিয়াকে বড় দলের অহমিকা ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, কাউকে অবহেলা করা উচিত নয়। ছোট দলগুলোর নেতাদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহন করতে হবে। মওলানা ভাসানীর মত সম্মিলিত বিরোধী দল বা যুক্তফ্রন্ট গঠন করতে হবে। তাহলেই বিজয় সম্ভভ হবে। অন্যথায় চলমান সংগ্রামে বিজয়ের সম্ভবনা কম।

তিনি বলেন, জাতি ও দেশের প্রয়োজনেই জিয়াউর রহমানকে সমর্থন করেছিলেন। দু:খজনক হলেও সত্য সেই বিএনপিও মওলানা ভাসানীকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২২ জানুয়ারী মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস বিএনপিরও পালন করা উচিত ছিল। ভাসানীকে দেয়া জিয়ার প্রতিশ্রুতি বিএনপি ভুলে গেছে।

সোমবার বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ মিলনায়তনে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস স্মরণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ আয়োজিত শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসাবে এসব কথা বলেন।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দুপুর বেলাও বিএনপি মনে করছে রাত শেষ হয়নি। আর সেই কারণেই তারা জনগনের কাছে যেতে পারছে না। তারা অনআকাংখিত কর্মসূচীও গ্রহন করতে পারছে না। নিরাপত্তার নামে বেগম জিয়া নিজেই গৃহবন্দি হয়ে থাকছেন। এভাবে চলতে থাকলে হবে না। তাকে মনে রাখতে হবে তার নিরাপত্তা সরকার দিবে না, আল্লাহ আর দেশের জনগনই তার নিরাপত্তা দিবে।

তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে জনগনের কাছে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে তার জনপ্রিয়তার ভিত হয়েই সরকার তাবে বক্সীবাজারের কোর্টে হাজিরার নামে ব্যস্ত রাখছে।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরো বলেন, মওলানা ভাসানী না হলে আ.লীগের জন্ম হতো না। আর আ.লীগ না হলে শেখ মুজিবুর রহমানও বঙ্গবন্ধু হতে পারতেন না। ভাসানী আর শেখ মুজিবের সম্পর্ক ছিল পিতা-পুত্রের মত। এ কথা প্রধানমন্ত্রীসহ আ.লীগ নেতাদের মনে রাখতে হবে। তারা মওলানা ভাসানীকে বাদ দিয়ে শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে তা হবে অস্পূর্ণ।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান আর আপনার নাম জনগনের হৃদয়ে চিরস্থায়ী করতে হলে গণতন্ত্রকে মুক্ত করে দিতে হবে। কোন ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন আয়োজন থেকে বিরত থাকতে হবে। ২০১৪ সালে দেয়া প্রতিশ্রতি মনে রেখে সকল দলের অংশগ্রহনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।

সভাপতির বক্তব্যে এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, মওলানা ভাসানীর প্রদর্শিত সংগ্রামের পথই মুক্তির পথ। সংগ্রাম ছাড়া কোন মুক্তি নেই। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে ভাসানীর কোন বিকল্প নাই।

তিনি ঢাবি সিনেট নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী পেনেলের ভরাডুবিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শুধু জনসমর্থন থাকলেই হবে না। জনসর্মনকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত করতে না পারলে সকল ক্ষেত্রেই বিপর্যয় অনিবার্য। নেতাদের আচরন পরিবর্তন করতে হবে। জনগনের কাছে যেতে হবে আত্মঅহমিকা ভুলে।

ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া'র সভাপতিত্বে ও নগর সদস্য সচিব মো. শহীদুননবী ডাবলু'র সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, ডিএল সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, গণতান্ত্রিক ঐক্যের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, ন্যাপ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল ভুইয়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, নরসিংদী জেলা সমন্বয়কারী এখলাছুল হক, যুবনেতা আবদুল্লাহ আল কাউছারী প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে নেতৃবৃন্দ মওলানা ভাসানীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

Leave a Reply