কর্ণফুলীতে থানা আছে,নিজস্ব ভবন নেই!

জে,জাহেদ, চট্টগ্রাম (আনোয়ারা-কর্ণফুলী): বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সবচেয়ে কাছের উপজেলা কর্ণফুলী। কর্ণফুলীতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)'র অধীনে থানা রয়েছে তবে নিজস্ব ভবন নেই।

স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকটি রুমে ভাড়ায় চলে থানার যাবতীয় কার্যক্রম। তবে সারাদেশের অন্যান্য থানার মতো জনবল দ্বারা সব কাজকর্ম পরিচালিত হলেও নেই কোন পুলিশ ব্যারাক ও একত্রীভবন।

সুত্রে জানা যায়, সুপারিশকৃত স্থানীয় সরকারের অধীনে থাকা চরলক্ষ্যা ইউপি ভবনের কয়েকটি ভাড়া রুমে অরক্ষিত অবস্থায় চলছে থানার কাজ। অপ্রিয় হলেও সত্য যে,থানায় ও অনেক সময় চুরির ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে দীর্ঘ এক যুগ সময়েও গড়ে ওঠেনি থানার নিজস্ব কোনো নতুন ভবন। এদিকে সাধারণ জনগন দাবি করছে,তারা উপযুক্ত নাগরিক অধিকার ও পুলিশ সেবা থেকে উপেক্ষিত। এমনকি ৫টি ইউনিয়নের প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ তাদের কাংখিত নাগরিক সেবা পাচ্ছেনা।

থানা ও ইউনিয়ন পরিষদ একই ভবনে পরিচালিত হওয়ায় নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলে মনে করছে সাধারণ জনগনের। পরিষদে সালিশ বিচার চাইতেও মানুষ ভেবে চিন্তা পা দিচ্ছে।

নবসৃষ্ট কর্ণফুলী উপজেলার মানুষের জান মাল ও নিরাপত্তার কথা ভেবে সৃষ্টি হয়েছিলো কর্ণফুলী থানা। এমনকি অর্থনৈতিক জোন, মিল কারখানা ও ছোটবড় আড়াই শত অপরিকল্পিত শিল্প কারখানার গুরুত্ব অনুধাবন করে নতুন থানা ভবন তৈরি করা অতীব জরুরী। সরেজমিনে দেখা যায়, অতি প্রাচীন সেমিপাকা পুর্বের ভবন বর্তমানে বিলীনের পথে। জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনটি প্রতিনিয়ত মাটির সাথে হামাগুড়ি খাচ্ছে।

অপরদিকে এখনো নিজস্ব সরকারি জমি ও থানা ভবন নির্মাণের বরাদ্দ পায়নি। ফলে কর্ণফুলী এলাকার জনগণ আধুনিক সেবা হতে উপক্ষিত। বিশ্বস্ত সুত্রে জানা যায়, দুই লক্ষাধিক মানুষের নিরাপত্তায় থানার গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায়। নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২ জন ইন্সপেক্টর, ৮ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ৫ জন সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর, ৯ জন মহিলা সহ ৩৯ জন পুরুষ সিপাহী।

যাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কষ্ট হলেও নিরুপায় হয়ে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে এসব পুলিশ কর্মকর্তারা। রোদ, বৃষ্টি আর শীতে অরক্ষিত ব্যারাকে থাকা মানুষগুলোর কষ্ট যেন নিত্যসাথী।

ব্যারাকে জায়গা না থাকায় গাঁদাগাদি করে থাকতে হয় তাদের। অনেককে আবার থাকতে হয় ভাড়া বাড়িতে। সেক্ষেত্রে মহিলা সিপাহীদের পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। অনেকে দুরে থাকার ফলে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।

তাছাড়া নেই পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা-আলাদা গারদখানা। একই টয়লেট ব্যবহার করে পুলিশ ও আসামীরা। জনবল থাকার পরও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকার কারণে পুলিশ, আসামী ও থানায় আসা সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়।

যদিও কর্ণফুলী উপজেলার ১৩ টি পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ চোরাচালান সহ মাদক পাচারের গোপন সড়ক রয়েছে। মইজ্জারটেক নামক চৌমুহনী হল নগরীতে প্রবেশ করার মুল ফটক। যেখান হতে প্রতিনিয়ত ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা লক্ষণীয়। কর্ণফুলী থানায় নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা ফেরদৌস ও পুলিশের ভূমিকা এতে প্রশংসনীয়।

সুত্র জানা যায়, সিএমপির অধীনে কর্ণফুলী থানার অবস্থানটা মূলত একটু প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকার ভেতরে। সচেতনমহলের দাবি, প্রশাসনের অবস্থান জনবহুল ও লোকচক্ষুর সামনে রাখা হলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে।

এমন পরিস্থিতিভেদে প্রত্যন্ত গ্রাম এলাকা চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন পরিষদে থানা পরিচালনা কতটা যুক্তিযুক্ত। বিষয়টি কতৃপক্ষের ভেবে দেখারও সময় হয়েছে বলে মনে করে স্থানীয় অনেকে।

অনেকে কর্ণফুলী থানাকে স্থানান্তরিত করে মইজ্জারটেক মেইন রোডের পাশে জনবহুল জায়গায় স্থাপন করার মত প্রকাশ করে। এতে জনগণের কাছে থানা পুলিশ ব্যাপক সমাদৃত হবে বলেও মন্তব্য করে।

এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবক এম মঈন উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন কর্ণফুলী থানা চরলক্ষ্যা ইউপি পরিষদের ভাড়া রুমে পরিচালিত হয়ে আসছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে নতুন ভবন তৈরি জরুরী মনে করেন তিনিও।

চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী জানান, পরিষদের কয়েকটি ভবন কর্ণফুলী থানাকে ভাড়া হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিষদের কোন সমস্যা হচ্ছেনা বলে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে উপ পুলিশ কমিশনার (বন্দর ডিসি) হারুন অর রশিদ হাযারী জানান, "ভবনের জন্য উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন ভবনের কাজ শুরু করবে"।

Leave a Reply