রাজধানীর মিরপুরে মাদকের ছড়াছড়ি

রাজু আহমেদ,স্টাফ রিপোর্টার: হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের অত্যাচারে অতিষ্ট মিরপুরবাসী। চুরি,ছিনতাই,চাঁদাবাজি,রাহাজানির পরিমান সহনীয় মাত্রা আগেই ছাড়িয়েছে বলে পুলিশের কার্যক্রমকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এবিষয়ে প্রতিবাদ করে ইতিমধ্যে সাধারন জনগন,সাংবাদিক এমনকি পুলিশকেও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে।

গোটা মিরপুর এলাকা এখন ৭০ মাদক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে। ৬২ চিহ্নিত স্পটে তারা নিয়মিত নানা ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি করছে। এর বাইরেও আছে ছোটখাটো অসংখ্য স্পট। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার তুলনায় মিরপুরকে ঘিরে মাদক ব্যবসা তুলনামুলক বেশি জমজমাট। মূলত মিরপুরে ঘনবসতি ও বস্তি এলাকা বেশি হওয়াই এর অন্যতম কারণ।

অভিযোগ আছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসৎ কিছু সদস্য, নামধারী কিছু সাংবাদিকসহ রাজধানীর মিরপুর এলাকা এখন ৭০ মাদক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে। ৬২ চিহ্নিত স্পটে তারা নিয়মিত নানা ধরনের মাদকদ্রব্য বিক্রি করছে। এর বাইরেও আছে ছোটখাটো অসংখ্য স্পট।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার তুলনায় মিরপুরকে ঘিরে মাদক ব্যবসা বেশি জমজমাট। তারা বলছেন, মূলত মিরপুরে ঘনবসতি ও বস্তি এলাকা বেশি হওয়াই এর অন্যতম কারণ। অভিযোগ আছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসৎ কিছু সদস্য, নামধারী সাংবাদিক, পুলিশের সোর্স, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীর কেউ কেউ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত বখরাও নেন। কোন কোন নামধারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও রয়েছে সরাসরি মাদক ব্যবসার অভিযোগ।

১৮ জানুয়ারী রাতে মাদকের অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরেই মিরপুরের মনিপুরে একটি বাড়ির কেয়ারটেকার ফরিদ মিয়া (২২) খুন হয়।
এবিষয়ে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, নিহত ফরিদ মাদকাসক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক ছিল। মাদকের অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই তাকে হত্যা করা হতে পারে।

মাদক বিক্রি করার সময় এর আগে কামরুল হাসান নামের এক পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতারও হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ইয়াবা বিক্রির সময় হাতেনাতে আটক করেছিল তাকে। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়ই পরস্পর বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইয়াবা, মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, প্যাথেডিনসহ সব ধরনের মাদকই এখন মিরপুরে মুড়ি-মুড়কির মতো সহজলভ্য।

মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হতাহতের ঘটনাই নয়, রাজধানীর মিরপুরে মাদক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র প্রায়ই ঘটছে খুনোখুনি। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে রাজধানীর মিরপুরের পরিচিতি অন্যতম প্রধান মাদকপ্রবণ এলাকা হিসেবে । অন্যান্য এলাকার সঙ্গে তুলনা করে মাদক বেচাকেনার জন্য মিরপুর শীর্ষে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের একজন কর্মকর্তা।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, মাদক নানাভাবে আইন-শৃঙ্খলায় নেতিবাচক ভূমিকা রাখে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মনজুরুল ইসলাম বলেন, নিন্ম আয়ের লোকজন বেশি বসবাস করায় মিরপুরে মাদক ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। অনেক মাদক ব্যবসায়ী দ্রুত বাসা বদল করায় তাদের আইনের আওতায় আনতেও বেগ পেতে হয়।

চিহ্নিত মাদক স্পট ও ব্যবসায়ী: সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মিরপুরে চিহ্নিত মাদকের স্পট ৬২টি। এসব স্পটে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে চিহ্নিত ৭০ মাদক ব্যবসায়ী। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মিরপুর মডেল থানা এলাকায় আটটি, পল্লবী থানা এলাকায় ২৮টি, কাফরুল থানা এলাকায় ১০টি, শাহ আলী থানায় চারটি এবং রূপনগর, ভাসানটেক ও দারুসসালাম থানা এলাকায় রয়েছে ১০টি মাদকের স্পট। তবে এসব এলাকায় আরও অনেক ভাসমান মাদকের স্পট রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সহযোগিতায় চিহ্নিত এসব স্পটে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে প্রায় সব থানা পুলিশের সিভিল টিমের সদস্যরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে মাদক ব্যবসায় সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে মদ, গাঁজার পাশাপাশি এ এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা চলে সবচেয়ে বেশি।

মিরপুরের যেসব এলাকাকে মাদক ব্যবসার স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- চিড়িয়াখানা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স বাশপট্টি ফারুকের স্পট, দোয়ারীপাড়া বারেক মোল্লার মদ ও জুয়ার স্পট, দোয়ারীপাড়া এখলাসের বাড়ী জাহাঙ্গীরের জুয়ার স্পট, দোয়ারীপাড়া ২ নং রোড মোহনের জুয়ার স্পট, চলন্তিকার মোড় নজুর ইয়াবা ও গাজার স্পট, ১৩ নাম্বার সেকশন ওয়ার্ড কাউন্সিলের পলিথিন ফ্যক্টোরির পাশে মোস্তাকের জুয়ার স্পট, সেনপাড়া ইট খোলা বাজারে তাজুর জুয়ার স্পট, সেনপাড়া সিএনজি গ্যরেজের পাশে রিপনের বাসায় রাহাতের স্পট, ১৩ নং অবদার সামিমের স্পট, ভাষানটেক ৩ নং বস্তিতে জলিলের জুয়ার স্পট, সাগরিকা সিনামা হলের বিপরিতে সাঈদের জুয়ার স্পট, ধামালকোট মসজিদের সাথে ক্যরামবোর্ড ঘরের পাশে আনেয়ার ও মোক্তারের জুয়ার স্পট, শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের পাশে ইদ্রিসের ফেনসিডিলের স্পট, লালকুঠি এলাকায় পুলিশের কথিত সোর্স রাজা ও ল্যাংড়া কবিরের ফেনসিডিলের স্পট, গাবতলী বাঁধের ওপর আমেনা বেগমের ফেনসিডিলের স্পট, শাহ আলী স্কুল রোডে বাবুর গাঁজার স্পট, কবরস্থান বস্তিতে রয়েছে ঝুনুর ফেনসিডিলের স্পট।

এ ছাড়া পল্লবী থানা এলাকার সাংবাদিক কলোনির পূর্ব পাশের গলিতে কালুর ফেনসিডিলের স্পট, রাইনখোলায় ফাতেমা ওরফে ফতে, মিয়াবাড়ি হাজী রোড বস্তিতে মেহেরুন, মিরপুর ২ নম্বর সেকশনে ববি, ঝিলপাড় বস্তিতে নজরুল ওরফে নজু, মিল্লাত ক্যাম্পে রুস্তম, মিরপুর মাজার রোডে রাজা, কসাইটুলী বাগডাসার নাসির উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, কাফরুলের কাজীপাড়ায় হারুন মোল্লা, বাদশা মিয়া, বাবুল মিয়া, আল-আমিন, মাহমুদুর রহমান রিপন ওরফে ফেনসি রিপন, সেলিম, ভাসানটেকের কানা জাহাঙ্গীর, আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়া, দুলাল মিয়া, বাশার, মিন্টু, ১১ নম্বর সেকশনের মিল্লাত ক্যাম্পে গুড্ডু, ৫ নম্বর এভিনিউ পানির ট্যাঙ্ক এলাকায় ছানা, বাদল, আরিফ, স্বর্ণপট্টিতে সাজু, ১২ নম্বর সেকশনে জামাল, মুসলিম বাজার ঢালে নুরু, শহীদ চলন্তিকা ক্লাব এলাকায় তপন, গিয়াসউদ্দিন, সুন্দর বাপ্পী, জিতু, মামুন, ৬ নম্বর সেকশন ট-ব্লকে রফিক, রূপনগর শিয়ালবাড়ীতে পারভেজ, পারভিন, ৬ নম্বর রোডে হারুন, ৭ নম্বর রোডে নানা, ৪-৫-৬ নম্বর রোডে রাজু ও তার মা নাজমা ওরফে নাজু, ৭ ও ৮ নম্বর লিঙ্ক রোডের বস্তিতে আবু সাঈদ, ১০ নম্বর রোডে সুমন, ১১ নম্বর মেইন রোডে আওলাদ, শহর আলী, রূপনগর রোডের পশ্চিম পাশে উজ্জ্বল, ১২ নম্বর রোডে আরাফাত, সুমন, হৃদয়, সোহেল, ১২ নম্বর রোডের পশ্চিম পাশে শিল্পীর মা শুক্কুরী বেগম, ১৩ নম্বর রোডে শীলা আপা, ১৪ নম্বর রোডে লতিফ, জাকির, কসাই মিন্টু ও সুমনের মাদকের স্পট রয়েছে। এ ছাড়া রূপনগর আবাসিক মোড় জামতলায় সেলিমের গাঁজার স্পট, ৩৩ নম্বর রোডের রূপনগরের পশ্চিম পাশের বস্তিতে মজিবরের গাঁজার স্পট, রূপনগর ১ নম্বর রোডের পশ্চিম পাশের বস্তিতে মামুন ও মাসুদের গাঁজার স্পট, পূরবী সিনেমা হলের বিপরীতে পূর্ব পাশে রয়েছে জহিরের ফেনসিডিলের স্পট।

মিরপুর বিভাগে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, চিহ্নিত এসব মাদক ব্যবসায়ীর অধিকাংশই বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন সময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না; যাওয়া সম্ভব হয় না মাফিয়াদের ধারেকাছেও। পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে মিরপুর এলাকার কিছু কিশোর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

এদের বেশির ভাগই ইয়াবা আসক, পুলিশের সোর্স, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীর কেউ কেউ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত বখরা নেন। কোন কোন নামধারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও রয়েছে সরাসরি মাদক ব্যবসার অভিযোগ। এসকল নামসর্বস্ব সাংবাদিক মোটর সাইকেলে মাদক ব্যবসায়ীদের পাহারা দিতেও দেখা যায়।

১৮ জানুয়ারী রাতে মাদকের অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরেই মিরপুরের মনিপুরে বাড়ির কেয়ারটেকার ফরিদ মিয়া (২২) খুন হয়। মিরপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান,ফরিদ মাদকাসক্ত ছিলেন। তার সঙ্গে এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক ছিল। মাদকের অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জের ধরেই তাকে হত্যা করা হতে পারে।

মাদক বিক্রি করার সময় এর আগে কামরুল হাসান নামের এক পুলিশ কনস্টেবল গ্রেফতারও হন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ইয়াবা বিক্রির সময় হাতেনাতে আটক করেছিল তাকে। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়ই পরস্পরবিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইয়াবা, মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, প্যাথেডিনসহ সব ধরনের মাদকই এখন মিরপুরে মুড়ি-মুড়কির মতো সহজলভ্য।

মাদক-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হতাহতের ঘটনা এগুলাই নয়, রাজধানীর মিরপুরে মাদক ব্যবসার আধিপত্য নিয়ে প্রায়ই ঘটছে খুনোখুনি। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে রাজধানীর মিরপুরের পরিচিতি অন্যতম প্রধান মাদকপ্রবণ এলাকা হিসেবে।

অন্যান্য এলাকার সঙ্গে তুলনা করে মাদক বেচাকেনার জন্য মিরপুরকে চ্যাম্পিয়ন বলে মন্তব্য করেছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের একজন কর্মকর্তা।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, মাদক নানাভাবে আইন-শৃঙ্খলায় নেতিবাচক ভূমিকা রাখে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের ব্যাপারে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মনজুরুল ইসলাম বলেন, নিম্ন আয়ের লোকজন বেশি বসবাস করায় মিরপুরে মাদক ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। অনেক মাদক ব্যবসায়ী দ্রুত বাসা বদল করায় তাদের আইনের আওতায় আনতেও বেগ পেতে হয়।

চিহ্নিত মাদক স্পট ও ব্যবসায়ী: সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মিরপুরে চিহ্নিত মাদকের স্পট ৬২টি। এসব স্পটে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে চিহ্নিত ৭০ মাদক ব্যবসায়ী।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মিরপুর মডেল থানা এলাকায় আটটি, পল্লবী থানা এলাকায় ২৮টি, কাফরুল থানা এলাকায় ১০টি, শাহ আলী থানায় চারটি এবং রূপনগর, ভাসানটেক ও দারুসসালাম থানা এলাকায় রয়েছে ১০টি মাদকের স্পট। তবে এসব এলাকায় আরও অনেক ভাসমান মাদকের স্পট রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের সহযোগিতায় চিহ্নিত এসব স্পটে নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে প্রায় সব থানা পুলিশের সিভিল টিমের সদস্যরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে মাদক ব্যবসায় সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে মদ, গাঁজার পাশাপাশি এ এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা চলে সবচেয়ে বেশি।

মিরপুরের যেসব এলাকাকে মাদক ব্যবসার স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- চিড়িয়াখানা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স বাশপট্টি ফারুকের স্পট, দোয়ারীপাড়া বারেক মোল্লার মদ ও জুয়ার স্পট, দোয়ারীপাড়া এখলাসের বাড়ী জাহাঙ্গীরের জুয়ার স্পট, দোয়ারীপাড়া ২ নং রোড মোহনের জুয়ার স্পট, চলন্তিকার মোড় নজুর ইয়াবা ও গাজার স্পট, ১৩ নাম্বার সেকশন ওয়ার্ড কাউন্সিলের পলিথিন ফ্যক্টোরির পাশে মোস্তাকের জুয়ার স্পট, সেনপাড়া ইট খোলা বাজারে তাজুর জুয়ার স্পট, সেনপাড়া সিএনজি গ্যরেজের পাশে রিপনের বাসায় রাহাতের স্পট, ১৩ নং অবদার সামিমের স্পট, ভাষানটেক ৩ নং বস্তিতে জলিলের জুয়ার স্পট, সাগরিকা সিনামা হলের বিপরিতে সাঈদের জুয়ার স্পট, ধামালকোট মসজিদের সাথে ক্যরামবোর্ড ঘরের পাশে আনেয়ার ও মোক্তারের জুয়ার স্পট, শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের পাশে ইদ্রিসের ফেনসিডিলের স্পট, লালকুঠি এলাকায় পুলিশের কথিত সোর্স রাজা ও ল্যাংড়া কবিরের ফেনসিডিলের স্পট, গাবতলী বাঁধের ওপর আমেনা বেগমের ফেনসিডিলের স্পট, শাহ আলী স্কুল রোডে বাবুর গাঁজার স্পট, কবরস্থান বস্তিতে রয়েছে ঝুনুর ফেনসিডিলের স্পট।

এ ছাড়া পল্লবী থানা এলাকার সাংবাদিক কলোনির পূর্ব পাশের গলিতে কালুর ফেনসিডিলের স্পট, রাইনখোলায় ফাতেমা ওরফে ফতে, মিয়াবাড়ি হাজী রোড বস্তিতে মেহেরুন, মিরপুর ২ নম্বর সেকশনে ববি, ঝিলপাড় বস্তিতে নজরুল ওরফে নজু, মিল্লাত ক্যাম্পে রুস্তম, মিরপুর মাজার রোডে রাজা, কসাইটুলী বাগডাসার নাসির উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী, কাফরুলের কাজীপাড়ায় হারুন মোল্লা, বাদশা মিয়া, বাবুল মিয়া, আল-আমিন, মাহমুদুর রহমান রিপন ওরফে ফেনসি রিপন, সেলিম, ভাসানটেকের কানা জাহাঙ্গীর, আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়া, দুলাল মিয়া, বাশার, মিন্টু, ১১ নম্বর সেকশনের মিল্লাত ক্যাম্পে গুড্ডু, ৫ নম্বর এভিনিউ পানির ট্যাঙ্ক এলাকায় ছানা, বাদল, আরিফ, স্বর্ণপট্টিতে সাজু, ১২ নম্বর সেকশনে জামাল, মুসলিম বাজার ঢালে নুরু, শহীদ চলন্তিকা ক্লাব এলাকায় তপন, গিয়াসউদ্দিন, সুন্দর বাপ্পী, জিতু, মামুন, ৬ নম্বর সেকশন ট-ব্লকে রফিক, রূপনগর শিয়ালবাড়ীতে পারভেজ, পারভিন, ৬ নম্বর রোডে হারুন, ৭ নম্বর রোডে নানা, ৪-৫-৬ নম্বর রোডে রাজু ও তার মা নাজমা ওরফে নাজু, ৭ ও ৮ নম্বর লিঙ্ক রোডের বস্তিতে আবু সাঈদ, ১০ নম্বর রোডে সুমন, ১১ নম্বর মেইন রোডে আওলাদ, শহর আলী, রূপনগর রোডের পশ্চিম পাশে উজ্জ্বল, ১২ নম্বর রোডে আরাফাত, সুমন, হৃদয়, সোহেল, ১২ নম্বর রোডের পশ্চিম পাশে শিল্পীর মা শুক্কুরী বেগম, ১৩ নম্বর রোডে শীলা আপা, ১৪ নম্বর রোডে লতিফ, জাকির, কসাই মিন্টু ও সুমনের মাদকের স্পট রয়েছে। এ ছাড়া রূপনগর আবাসিক মোড় জামতলায় সেলিমের গাঁজার স্পট, ৩৩ নম্বর রোডের রূপনগরের পশ্চিম পাশের বস্তিতে মজিবরের গাঁজার স্পট, রূপনগর ১ নম্বর রোডের পশ্চিম পাশের বস্তিতে মামুন ও মাসুদের গাঁজার স্পট, পূরবী সিনেমা হলের বিপরীতে পূর্ব পাশে রয়েছে জহিরের ফেনসিডিলের স্পট।

মিরপুর বিভাগে দায়িত্বরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, চিহ্নিত এসব মাদক ব্যবসায়ীর অধিকাংশই বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন সময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না, যাওয়া সম্ভব হয় না মাফিয়াদের ধারেকাছেও। পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বর্তমানে মিরপুর এলাকার কিছু কিশোর মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এদের বেশির ভাগই ইয়াবা আসক্ত।