সাতক্ষীরায় প্রতি দিন ৫০-৫৫ জন শিশু রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে

জাহিদ হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: রোটা ভইরাসে সাতক্ষীরায় গত দেড় মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। দিন বাড়ার সাথে সাথে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে ব্যাপকহারে। চিকিৎসা দেওয়ার পরও শিশুরা দ্রত সুস্থ হচেছ না। শুধুমাত্র সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫০০ জন শিশু। এর বাইরেও আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি।

সদরের তুজলপুর গ্রামের ময়না, খাতুন ঝাউডাঙ্গা গ্রামের সাহিদা, কলারোয়ার আচিয়া খাতুন জানান, তাদের শিশুর বয়স এ থেকে দেগ বছর। শিশু প্রথমে পাতলা পায়খানা করছে। যা পানির মত।

প্রচন্ড গন্ধ। শিশু স্বাস নিচেছ দ্রত।মাঝে মধ্যে বমি করছে। প্রসাব করছে কম। খাওয়া চাহিদা নেই। হাসপাতালে ভর্তি করা হচেছ। চিকিৎা দেওয়ার পরও শিশু দ্রত সুস্থ হচেছ না। শিশুর ওজন কমে যাচেছ। এতে করে মা ও বাবা চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: শাসমুর রহমান বলেন, শীত শুরু হওয়ার সাথে সাথে বেশিরভাগ শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। সাথে জ্বর ও বমিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত শিশুর আন্ত্রিক কোষে একটি ভাইরাস দেখা দেয়।

সেটি চাকার মত। এটিকে রোটা ভাইরাস বলা হয়। রোটা ভাইরাসের সংক্রমন এতটাই ভয়াবহ যে সঠিক চিকিৎসা না হলে শিশুদের মুত্য হতে পারে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৩ সালে ২ হাজার ৭২৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোটাভাইরাসও আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে।

ভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগীর মল দ্বারা দূষিত কোন বস্তু পানি, খাবারের মাধ্যামে শরিরে প্রবেশ করে। এ ছাড়া মানুষের হাতে ঘন্টাব্যাপি এ জীবানু বেঁচে থাকতে পারে। একটি সুস্থ্য শিশুর দেহে রোটা ভাইরাস প্রবেশ করার প্রায় ২ দিনের কম সময়ের মধ্যে রোগের লক্ষণ দেখা দেয়।

এ রোগে শিশু আক্রান্ত হলে প্রথমে বমি শুরু হয়। ধীরে ধীরে পানির মত পাতলা পায়খানা শুরু হবে। সাথে জ্বর এবং পেটে ব্যাথা দেখা দেবে। শিুশুর খাওয়ার আগ্রহ কম থাকবে। মুখে খাওয়ার সাথে সাথে শিশু বমি করবে। বমি ও জ্বর তিন থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ডা;শামসুর রহমান জানান,দুটি উপায়ে রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়।যেমন পরিস্কার পরিচছন্না রাখা শিশুদের।ভাইরাস অবস্থান করতে পারে এমন জিনিসপত্র শিশুর নাগালের বাইরে রাখতে হবে। শিশুর শরীর পরিস্কার রাখতে হবে। মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি ভিটামিন খাওয়াতে হবে। বর্তমানে রোটা ভাইরাসে টিকা পাওয়া যায়।

তিনি আরো বলেন, জেলায় বর্তমানে ব্যাপক হারে রোটাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি দিন ৫০-৫৫ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত হচেছ। হাসপাতালে ভর্তি হচেছ আক্রান্ত শিশু। গত দেড় মাসে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।