সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কে হবেন দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি ?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর –
আগামী ২৩ এপ্রিল শেষ হতে চলেছে দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ। সংবিধান অনুসারে আজ থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা আছে। একইসাথে কে হতে চলেছেন দেশের সম্ভাব্য ২১তম রাষ্ট্রপতি তা নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে।

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নিয়ে নানা মহলে কানাঘুষা আছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষপর্যায়ে কথা বলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে যাদের নাম শোনা গেছে বা যারা আলোচনায় আছেন, তারা হলেন— সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

তবে জল্পনা-কল্পনা যাই থাকুক না কেন, দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই বেছে নিতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সুশীল বা পেশাজীবী মহল থেকে কাউকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার সংসদ সদস্যরা। বর্তমান জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠের অধিকারী আওয়ামী লীগ। ফলে সে দলের মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন। স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে মূল ভূমিকা রাখবেন। তবে এখন পর্যন্ত তিনি এ ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত বা কিছু বলেননি।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সুত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় তিনটি নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের নামও। তবে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন কিনা, তা নির্ভর করছে তার শারীরিক সুস্থতার ওপর। আলোচনায় আরও রয়েছে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের নামও শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।

দলীয় সূত্রগুলো আরও বলছে, দেশ ও দলের প্রতি আনুগত্য রয়েছে, ইমেজসম্পন্ন ও সুপরিচিত এবং রাজনীতিতে ত্যাগ-তিতীক্ষা রয়েছে— এমন ব্যক্তিই হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া, অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর না হওয়ার কারণেই সুশীল সমাজ ও পেশাজীবী মহল থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে না বলে জানিয়েছেন সরকারের প্রভাবশালী একজন মন্ত্রী।

এদিকে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ শুরু হয়ে গেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা আগামীকাল বুধবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কথা বলবেন বলে জানা গেছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সংবাদ মাধ্যকে জানিয়েছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের ২৩ এপ্রিল। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ অবসানের পূর্ববর্তী নব্বই হতে ষাট দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হইলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হইতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।’ সে হিসাবে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময়সীমা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান থাকায় সংসদের চলতি ১৯তম অধিবেশনেই এ নির্বাচন সম্পন্ন হবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ অধিবেশন চলার কথা আছে। অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে সংসদে ভোটের প্রয়োজন পড়বে না। আর একাধিক প্রার্থী হলে ভোট করতে হবে। সংসদ সদস্য বা সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারবেন। তবে সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার সংসদীয় আসন শূন্য হবে। রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর প্রস্তাবকারী এবং সমর্থনকারীকে অবশ্যই সংসদ সদস্য হতে হবে। জাতীয় সংসদের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। এ নির্বাচনের জন্য একটি আলাদা আইন আছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো অনুরোধ এলে জাতীয় সংসদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯ ফেব্রুয়ারি: দেশের একুশতম রাষ্ট্রপতি পেতে নির্বাচন কমিশন আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ঠিক করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সোমবার রাতে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন ১৯ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন ঠিক করেছে বলে জানতে পেয়েছি।