ছেলেরে অভিভাবক রাজী থাকলেও রাজী নয় এলাকার মাতব্বররা

মাহফুজ আহম্মেদ,কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি: আলোচিত ঘটনার ৩য় দিনে কুমিল্লায় দেবিদ্বারের বিয়ের দাবীতে ছেলের বাড়িতে অনশন করা তরুণী ছালমা আক্তার এর বিয়ে নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ।

ছালমাকে বিয়ে করতে ছেলে ও ছেলের বাবা-মা রাজী থাকলেও রাজী নয় এলাকার মাতব্বররা । স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্যই হচ্ছে না কোনো মিমাংসা ।ছেলে/ মেয়ে পক্ষ থেকে টাকা হাতানোর জন্যই এমন পন্থা বের করেছে এমনটিই জানান স্থানীয় এলাকাবাসী ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানায় , ছালমাকে বিয়ে করতে ছেলে ও ছেলের বাবা-মা রাজী থাকলেও রাজী নয় এলাকার মাতব্বররা । রসুলপুর ইউনিয়ন এর বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুল হাসান, আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর ও আক্তার মেম্বার নামে ব্যক্তিদের জন্যই হচ্ছে না কোনো মিমাংসা ।

বিয়ের জন্য সবাই রাজী থাকলেও ছেলে/ মেয়ে পক্ষ থেকে টাকা হাতানোর জন্যই এমন পন্থা বের করেছে এমনটিই জানান স্থানীয় এলাকাবাসী ।
এবিষয়ে জাহাঙ্গীর এর সাথে যোগাযোগ করলে ,তিনি জানান অভিযোগ গুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন । এই রকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি ।

মেয়ের বিষয়ে আমি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকার মাতব্বরদের নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি । তবে বিষয়টি নিয়ে রসুলপুর ইউনিয়ন ৮ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আক্তার দু’পরিবারকে অনেকটা কোনঠাসা করছে । বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়ে তাদের থেকে টাকা হাতানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।

অপরদিকে আক্তার মেম্বার এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ছেলে ও মেয়ে পক্ষ বসার কথা থাকলেও আগামী দিন বুধবার মিমাংশার জন্য বসা হবে । শালিসে চেয়ারম্যানও থাকবে বলে তিনি জানান।

অনশন কারী ছালমা আক্তার জানান , আমাকে ছেলে পরিবারের তারা মেনে নিয়ে তাদের ঘরে তোলেছে । এখন আমি পরিবারের লোকজনের মন যোগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি । তবে এলাকার স্থানীয় কিছু মাতব্বরা মিজানকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। তারা মিজানকে বাড়িতে আসতে দিচ্ছে না ।

যতটুকু জানি মিজানের মামার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার কামাল্লায় সে বর্তমানে আছে । গত ২/৩ দিন যাবত অনেকেই আমাকে টাকা নেওয়ার প্রস্তাব করেছে ,কিন্তু আমি টাকা দিয়ে কী করব । আমি যদি মিজানকে বিয়ে না করতে পারি তাহলে আমার আতœহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না । আমি হারিয়েছি নিজের সম্মান ,হারিয়েছি নিজের পরিবার এখন যদি মিজানকেও হারাই তাহলে আমি আর কী জন্য বাচঁব ।

উল্লেখ্য, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ৩নং রসুলপুর ইউনিয়ন এর জিন্নতপুর গ্রামে বিষ নিয়ে বিয়ের দাবীতে অনষন করেছে উপজেলার দেবিদ্বার মহিলা কলেজের ছাত্রী ছালমা আক্তার ।কিন্তু পরিবার প্রথমে তাকে মেনে না নিয়ে সমঝোতার অপচেষ্টা করলেও এখন মেনে নিয়ে তাকে ঘরে তোলে নিয়েছে ,তবে এলাকার মাতব্বরা ছেলের পক্ষে সমাধান করার ব্যার্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । যার কারনে মেয়েটির ভবিষৎ দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তায় ।

৪ বছর প্রেমের পর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে গত ২ বছর আগে কোর্টে বিয়ে করবে বলে কুমিল্লার একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায় ,সেখানে হয়েছে তাদের শারীরিক সম্পর্ক । তবে সম্পতি মিজান দেশের বাহির থেকে এসে অন্য মেয়েকে বিয়ের করতে চাইলে বোতল ভর্তি বিষ নিয়ে ছেলের বাড়িতে গত ৩ দিন যাবত করছেন অনশন ।

Leave a Reply