ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির ফাঁদে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী গ্রেফতার

প্রবাসের কথা ডেস্ক- ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির ফাঁদে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রে সৈয়দ আহমেদ জামাল নামে এক বাংলাদেশি গ্রেফতার হয়েছেন। ৩০ বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র বসবাস করছেন। আহমেদ জামালের দুই সন্তান এবং স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে।

পুলিশের খাতায় জামালের নামে কোনও অপরাধমূলক কাজের রেকর্ড নেই। তবুও বুধবার সকালে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করেন অভিবাসন এবং শুল্ক দফতরের (আইসিই) কর্মকর্তারা। খবর জি নিউজের।

অভিবাসন দফতরের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কোনও ব্যক্তিকে বিপজ্জনক মনে হলে তাকে গ্রেফতার করা বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছেন তারা। আইসিইর কার্যনির্বাহী প্রধান থমাস হোমান জানিয়েছেন, আদালতের আদেশেই জামালকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

২০১১ সালে একবার জামালের ভিসা বাতিল হয়ে যায়। আদালত ‘ভলান্টারি ডিপারচার’এর নির্দেশ দিলেও সে সময় দেশ থেকে জামালকে বিতাড়িত করা হয়নি। পরে স্থায়ী বসবাসের ভিসা আবদেন করলে খারজি করে দেয় অভিবাসন আপিল বোর্ড। আদালতের নির্দেশেই জামালকে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি অভিবাসন দফতরের।

সৈয়দ আহমেদ জামাল একজন ‘বিহারি বাংলাদেশি’। ১৯৮৭ সালে কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে দেশে ছেড়েছিলেন। জামাল বিজ্ঞানমনস্ক হওয়ায় কট্টরপন্থীদের হাতে খুন হওয়ার আশঙ্কা থেকে আর দেশে ফেরেননি।

জামাল কানসাসের লরেন্সে আহমেদ বেশ জনপ্রিয় মুখ। তার পরিবার, বন্ধুবান্ধব থেকে প্রতিবেশীরা জনমত তৈরি করতে স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ২৫ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়েছে। জামালের ১৪ বছরের ছেলে একটি ভিডিওতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে, পরিবারের ভরসা একমাত্র তাদের বাবা। ছোট ভাই দিনরাত কাঁদছে। বোনের সামনের পরীক্ষায় মনোযোগ করতে পারছে না। মায়ের একটি কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে গেলে আমার মা মারাই যাবেন।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি