পাঁচদিনের খেলা আড়াই দিনেই শেষ!

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- পিচ বোলিং বান্ধব, স্পিনারদের বল টার্ন করছে। উইকেটে বেশি সময় টিকে থাকাই দায়। তাই বলে আড়াই দিনেই টেস্ট ম্যাচ শেষ। বাস্তবে তাই হল। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার পাঁচদিনের ম্যাচ শেষ হল আড়াই দিনে। ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ২১৫ রানের বড় পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগারদের।

জয়ের জন্য ৩৩৯ রানের লক্ষ্য ব্যাট করতে নেমে ১২৩ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এতে ২১৫ রানের বড় জয়ে ১-০ ব্যবধানে দুই ম্যাচের সিরিজ জিতে নেয় শ্রীলংকা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন মুমিনুল হক। এছাড়া মুশফিকুর রহিম ২৫, ইমরুল কায়েস ১৭ ও লিটন দাস ১২ রান করেন।

শ্রীলংকার পক্ষে আকিলা ধনঞ্জয়া ৫টি, রঙ্গনা হেরাথ ৪টি ও দিলরুয়ান পেরেরা ১টি উইকেট নেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলংকাকে ২২৬ রানে গুটিয়ে দিয়ে জয়ের জন্য ৩৩৯ রানের লক্ষ্য পাওয়া বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস ইনিংস ওপেন করতে নেমে দলকে ভালো সূচনা এনে দিতে ব্যর্থ হন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দলীয় মাত্র ৩ রানে তামিম আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে গেলে প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দিলরুয়ান পেরেরার করা ওই ওভারের প্রথম বলেই এলবিডব্লিউর ফাদেঁ পড়ে সাজঘরে ফেরার আগে তামিম করেন ২ রান।

তামিমের বিদায়ের পর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালাতে থাকেন ইমরুল। শুরুর ধাক্কা যখন প্রায় কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ তখনই ইমরুলের বিদায়ে ফের ধাক্কা খায় টাইগার শিবির। ইমরুল কায়েসকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে ৪৬ রানের জুটি ভাঙেন রঙ্গনা হেরাথ।

লংকান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের করা ইনিংসে ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে বিশাল এক ছক্কা হাঁকান ইমরুল। তবে পরের বলেই ব্যাটের কানায় লেগে বল উইকেটরক্ষক ডিকভেলার গ্লাভসে। ফলে ব্যক্তিগত ১৭ রানেই সাজঘরের পথ ধরতে হয় ইমরুলকে। দলীয় রান তখন ৪৯।

ইমরুলের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামা মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতি আগে বাকি সময় টুকু নির্বিঘ্নেই পার করেন মুমিনুল। তবে লাঞ্চের পর আর পারেননি। রঙ্গনা হেরাথের করা ইনিংসের ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ডিকভেলাকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন মুমিনুল। তিনি করেন ৩৩ রান।

মুমিনুল সাজঘরে ফেরার পর ব্যাট করতে নামেন প্রথম ইনিংসে দৃঢ়তার পরিচয় দেওয়া লিটন দাস। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। দলীয় ৭৮ রানে তিনি আউট হয়ে গেলে বাংলাদেশের চতুর্থ উইকেটের পতন হয়। আকিলা ধনঞ্জয়ার করা ইনিংসের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে খোঁচা দিয়ে কুশল মেন্ডিসের হাতে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরার আগে ১২ রান করেন লিটন।

লিটনের বিদায়ের পর পঞ্চম উইকেট জুটিতে মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম দলীয় সংগ্রহে ২২ রান যোগ করেন। তবে এরপরই বড় বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৪ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে পড়ে যায় টাইগাররা।

২৫তম ওভারে দলীয় ১০০ রানে ধনঞ্জয়ার বলে করুনারত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্রথমে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ। তিনি করেন ৬ রান। দলীয় সংগ্রহে আর মাত্র দুই রান যোগ হওয়ার পর হেরাথের করা পরের ওভারের শেষ বলেই স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফেরেন ২৫ রান করা মুশফিক। দলীয় ১০২ রানেই ধনঞ্জয়ার করা পরের ওভারের প্রথম বলে কুশল মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১ রান করা সাব্বির। একই ওভারের চতুর্থ বলে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হয়ে ফেরেন ১ রান করা আব্দুর রাজ্জাক।

রাজ্জাকের বিদায়ের পর ব্যাট করতে নামা তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় সংগ্রহে ৯ রান যোগ করেন মিরাজ। তবে এরপরই ফিরে যান তিনি। ধনঞ্জয়ার বলে উইকেটরক্ষক ডিকভেলার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে মিরাজ করেন ৭ রান।

দলীয় ১১৩ রানে মিরাজের আউটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নবম উইকেটের পতনের পর ব্যাট করতে নামেন শেষ ব্যাটসম্যান মোস্তাফিজুর রহমান। তাকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় সংগ্রহে আর মাত্র ১০ রান যোগ করার পরই হেরাথের বলে তাইজুল সীমানায় গুনাথিলকার হাতে ধরা পড়ে বিদায় নিলে ১২৩ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এতে ২১৫ রানের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে হাথুরুসিংহের শ্রীলংকা।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি

Leave a Reply