অন্যের দেয়া ভাত খেয়ে ঘরের বারান্দায় অবস্থান করছেন গৃহবধূ !

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি. প্রবাস জীবনে দুই জনের সাথে পরিচয়, সেখান থেকে প্রেম। প্রেমের পরিণয় বিয়ে। দীর্ঘ চার বছর প্রবাস জীবনে সংসার ভালোই চলছিল। কিন্তু প্রেমিক স্বামীর অতিলোভে যেন সব কিছু শেষ হওয়ার পথে। তবুও চেষ্টা করছেন তার প্রিয় স্বামীর ঘর সংসার করতে। কিন্তু সব কিছুতেই বাঁধা হয়ে দ্বারায় যৌতুক নামের সর্বনাশা লোভটি। এমনই ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর গ্রামে।

ওই গৃহবধূর নাম মনি আক্তার (২৯)। তিনি মাগুরা জেলা সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মো. আমজেদ আলী মোল্লার মেয়ে। ওই গৃহবধূ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনি আক্তারের সঙ্গে মরিশাসে পরিচয় হয় যুবক মো. সাইফুল খানের (২৯)। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সাইফুলের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্য্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. শাহজাহান খান।

গতকাল রোববার দুপুরে সরেজমিনে ওই গৃহবধূকে তালাবদ্ধ ঘরের দরজার সামনে বসে থাকতে দেখা যায়। স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন তার সঙ্গে যৌতুকের জন্য এমন আচরণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মনি আক্তার বলেন, ২০১৩ সালের শুরুর দিকে তিনি মরিশাস যান।

সে খানে তার মামার তত্ত্বাবধানে একটি গার্মেন্টেসে কাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে পরিচয় হয় মো. সাইফুল খানের (২৯) সঙ্গে। সাইফুল একটি ডেকোরেটরের দোকানে চাকুরি করতেন। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের পরিণয়ে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এর কিছুদিন পর সাইফুলের চাকুরি চলে যায়।

তার (মনি আক্তার) টাকায় চলতো তাদের সংসার। এরপরে সাইফুলের বিধবা মা শাহনাজ বেগম ও ছোট দুই ভাই মাসুম ও রাকিবের জন্যও খরচ পাঠাতেন তিনি। একপর্যায়ে সাইফুল বাড়িতে ঘর উঠানোর কথা বলে তার (মনি আক্তার) জমানো তিন লাখ টাকা নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। দেশে এসে সাইফুল তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। নিরুপায় হয়ে ২০১৭ সালের ৭ মার্চ তিনিও (মনি) বাংলাদেশে চলে আসেন এবং স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ওঠেন।

আসার সময় তিনি ৭০ হাজার টাকা ও n১৬ ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে আসেন। প্রায় পাঁচ মাস ওই বাড়িইে থাকেন। একপর্যায়ে তার কাছে দুই লাখ টাকা চায় সাইফুল। এতে রাজি না হওয়ায় জোড়পূর্বক ৫০ হাজার টাকা ও ৪ ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে যায় সাইফুল। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তারা ঢাকার সাভারে চলে যান। সেখানে গার্মেন্টেসে চাকুরি নেন তিনি। আর সাইফুল রাজমিস্ত্রীর কাজ শুরু করেন। বাড়িতে শাশুড়ি ও দুই ভাইয়ের জন্য প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা পাঠাতেন। প্রায় চার মাস পরে আবারও তার কাছে মোটরসাইকেল কেনার জন্য দুই লাখ টাকা চান সাইফুল। দিতে না পারায় যোগাযোগ বন্ধ করে

এ ঘটনায় আত্নগোপন করে থাকেন সাইফুল এবং এ ঘটনায় তাকে (মনি) গুম মামলা দেওয়ার ভয় দেখান শাশুড়ি। গত শুক্রবার সাইফুলের খোঁজে তিনি বাড়িতে আসেন এবং সাইফুলকে দেখতে পান। এতে সাইফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হন। তাকে (মনি) মারধর করে ঘরে তালা লাগিয়ে সাইফুল ও তার পরিবারের সদস্যরা এক আত্তীয়ের বাড়িতে গিয়ে ওঠে।

শুক্রবার থেকে গতকাল পর্যন্ত অন্যের দেওয়া ভাত খেয়ে তিনি ওই ঘরের বারান্দাই অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে সাইফুল ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে চেষ্টা করেও কোন যোগাযোগ করা যায়নি।

বাউফল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তার জানা নেই

Leave a Reply