গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় ১৪ মাস পর লাশ উত্তোলন

মোঃ ফরহাদ আকন্দ, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতাল পল্লীতে হামলার ঘটনায় নিহত রমেশ টুডুর লাশ দাফনের ১৪ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংটাজুড়ি এলাকা থেকে তার লাশ উত্তোলন করা হয়।

রমেশ টুডুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূূমি) মো. রাফিউল আলমের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন মিয়া বলেন, সাঁওতাল পল্লিতে হামলার ঘটনায় গুলি ও তীরবিদ্ধ হয়ে ৯ পুলিশ সদস্যসহ ৩০ জন আহত হন। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গল মার্ডি ও শ্যামল হেমব্রম নামে দুই আধিবাসীর মৃত্যু হয়। এছাড়া হামলার ঘটনায় রমেশ টুডু নিহত হওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়। কিন্তু পুলিশি প্রহরায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই রমেশ টুডুর লাশ দাফন করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হামলা ও হত্যার ঘটনায় প্রথমে স্বপন মুরমুনামে একজন বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। কিন্তু মামলা নিয়ে সাঁওতালদের আপত্তি থাকায় তাদের পক্ষে থমাস হেমব্রম বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় আবারও লিখিত এজাহার দায়ের করেন। কিন্তু থমাস হেব্র্রনের অভিযোগটি মামলা হিসেবে রুজু না করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। অভিযোগটি মামলা হিসেবে আমলে না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং রমেশ টুডুর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন থমাস হেমব্রম।

পরে উচ্চ আদালত তা তদন্তের জন্য পিবিআই গাইবান্ধাকে নির্দেশ দেন। এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশ পেয়ে রমেশ টুডুর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে লাশ উত্তোলনের জন্য গাইবান্ধা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও একজন চিকিৎসকের উপস্থিতিতে রমেশ টুডুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রাসেল

Leave a Reply