খালেদা জিয়া যদি তার এতিম ছেলের কথা বলতেন, তাও হতো: প্রধানমন্ত্রী

সময়ের কণ্ঠস্বর- দুই কোটি টাকার দুর্নীতির জন্য খালেদা জিয়ার এই শাস্তির কী দরকার ছিল- রায়ের সমালোচনাকারীদের এমন বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বলেছেন, বিএনপির লোকেরা বলে- হ্যাঁ মাত্র এতটুকু টাকার জন্য এই শাস্তি দেয়ার কি দরকার ছিল? এতটুকু মানে দুই কোটি টাকার জন্য এই শাস্তি কেন দেয়া হল?

টাকাটা কোন এতিমের কাছে গেছে- এ প্রশ্ন করে তিনি বলেন, যদি খালেদা জিয়া বলতেন আমার দুই ছেলে এতিম, তার জন্য রেখেছি। তাও একটা যুক্তি ছিল। সেটিও উনি করেননি। নিজের কাছে কুক্ষিগত করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে।

ইতালি সফরে গিয়ে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রোমে গ্র্যান্ড হোটেলে পারকো দেই প্রিনচিপিতে আওয়ামী লীগের দেয়া এক সংবর্ধনায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে কথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় নিয়ে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলার রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যে মামলায় খালেদা জিয়ার শাস্তি হয়েছে, সে মামলা কে দিয়েছে? খালেদা জিয়ার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। ‘সেনাবাহিনীর ৯ জেনারেলকে ডিঙিয়ে মইন উদ্দিনকে তিনি সেনাপ্রধান করেছিলেন। আর বিশ্বব্যাংকে চাকরি করতেন ফখরুদ্দীন, তাকে নিয়ে এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর করেছিলেন। তাদের দলীয় লোক ইয়াজউদ্দীনকে বানালেন রাষ্ট্রপতি। ফখরুদ্দীন, মইন উদ্দিন আর ইয়াজউদ্দীন তারাই তো তার বিরুদ্ধে মামলা দিলেন।এ মামলা তো আওয়ামী লীগ দেয়নি।

দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালত রায় দিয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে তার দলের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালত রায় দিয়েছেন। এখানে আমাদের তো করার কিছু নেই। আর আমরা যদি করতামই তা হলে ১০ বছর তো মামলা চলতে দিতাম না। ২০০৮-এ যখন ক্ষমতায় এলাম, তখনই তো করতে পারতাম। আমাদের বিচার বিভাগ স্বাধীন। এখানে আমাকে গালি দেয়া বা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কী যুক্তি থাকতে পারে আমরা তো সেটি বুঝি না।

অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার স্বামী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান, দুই ছেলে তারেক রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।

ইতালি আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিস ফারাজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী প্রমুখ।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, আমার প্রশ্ন- আজকে যারা বিএনপি দরদি, আঁতেলরাও আছেন, তারা বলেন- দুই কোটি টাকার জন্য কেন এত মামলা। তা হলে আমার এখানে একটি প্রশ্ন আছে- দুর্নীতি করার জন্য কি একটি সিলিং থাকবে যে, এত কোটি পর্যন্ত দুর্নীতি করা জায়েজ। তারা কি সেটি বলতে চায়? বিএনপি তা হলে একটি দাবি করুক যে, এত কোটি পর্যন্ত তারা দুর্নীতি করতে পারবেন। সেটি নিয়ে একটি রিট করুক।

দুর্নীতি-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিচার চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এটুকু বলতে চাই- দুর্নীতি যারা করবে, সন্ত্রাস যারা করবে, জঙ্গিবাদের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিচার হতেই হবে। কারণ বাংলাদেশটাকে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমরা আনতে চাই। বাংলাদেশের উন্নয়ন আমরা চাই। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নত হোক সেটিই আমরা চাই। সেটি সম্ভব যখন দেশে দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, স্বজনপ্রীতি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।

রবি