শাকিব আগেই বলেছিল, সন্তান হলেই আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবে: অপু

বিনোদন ডেস্ক- সম্পর্কটা এখন শুধুই সময়ের সুতায় বাঁধা। ঢালিউড তারকা দম্পত্তি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিচ্ছেদটা কেবলই আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায়। শাকিবের ডিভোর্স আবেদনের তিন মাস পূর্ণ হবে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। এ দিনই কার্যকর হবে ডিভোর্স।

গত বছরের ২২ নভেম্বর আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজের মাধ্যমে অপুর বাসার ঠিকানায় তালাকনামা পাঠিয়েছেন শাকিব। আইনজীবী জানিয়েছেন, তালাকনামাটি কার্যকর হতে ৯০ দিন সময় লাগবে।

আইনজীবীর ভাষ্যে, “শাকিব খান যদি মনে করেন এটাই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, তবে ৯০ দিন পর তালাকনামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে।”

আইনের বেঁধে দেওয়া ৯০ দিনের মধ্যে ৮৩ দিন পেরিয়ে গেলেও বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি শাকিব। তিনি জানান, আমি চাই এটা শেষ হয়ে যাক। আর যেটা শেষ হচ্ছে, সেটা নিয়ে কিছুর বলার থাকেনা।

এদিকে প্রথমে মানতে না চাইলেও, বেলাশেষে হার মেনেছেন অপু বিশ্বাস। মেনে নিয়েছেন শাকিবের ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত। অপুর কথায়, ‘দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে একে অপরের প্রতি আস্থা থাকতে হয়। মনের মিল না হলে কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় না। একজন স্ত্রীর পক্ষে যা কিছু মেনে নেয়া সম্ভব, তার সবকিছুই মানার চেষ্টা করেছি। তারপরও শাকিব তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছে। সে যেটা ভালো মনে করেছে, সেটাই করেছে। আমিও তাই ডিভোর্স মেনে নিয়েছি।’

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে এফএম রেডিও চ্যানেল ‘রেডিও আমার’-এ একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অপু বিশ্বাস দীর্ঘ আলাপচারিতার এক পর্যায়ে শাকিবকে ‘চরিত্রহীন’ হিসেবে উল্লেখ করে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘সে তার ক্যারিয়ারের জন্য বাচ্চার সঙ্গেও নাটক করছে। আপনারা প্লিজ, তার ক্যারিয়ার দেখে রাখুন। বাচ্চাকে আমি দেখে রাখবো।’

অপু বলেন, ‘শাকিবের চরিত্র খারাপ জানতাম কিন্তু এত খারাপ জানতাম না। যেসব মেয়েদের সঙ্গে তার ওঠা-বসা, আমি ভেবেছিলাম সন্তান হলে সে এই পথ থেকে সরে আসবে। কিন্তু ঘটেছে তার উল্টো। বাবা হয়ে সন্তানের স্বার্থেও সে ছাড় দেয়নি। তাকে ভালোবেসে আমি ঘর ছেড়েছি, পরিবার ছেড়েছি, ক্যারিয়ার ছেড়েছি। বিনিময়ে পেয়েছি শুধু অবহেলা আর অসম্মান।

আরও পড়ুন-

২২ ফেব্রুয়ারি’র পর শাকিব-অপু ‘সাবেক দম্পতি’

ডিভোর্স বিষয়ে নায়িকা বলেন, ‘শাকিব আগেই আমাকে বলেছিল, আমাদের সন্তান হলই সে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবে। তখন আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেইনি। কথার কথা মনে করেছিলাম। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি বিষয়টা কতটা সত্যি। তবে সবাইকে তো কোনো না কোনো কিছু আঁকড়ে ধরে বাঁচতে হয়। এখন আব্রামই আমার একমাত্র অবলম্বন। তাকে নিয়েই আগামী দিনগুলো নতুন করে সাজাতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘একটা মানুষ বাঁচে কতদিন? এখন শাকিবের বয়স চল্লিশ। আমার ছেলের বয়স ১৫ মাস। আমার ছেলের বয়স যখন চল্লিশে যাবে তখন শাকিব বার্ধক্যে চলে যাবে, তখন যদি আমার ছেলে তাকে একটা অপমানজনক কথা বলে ফেলে সেটা কি শাকিব নিতে পারবে?’

অপু আরো বলেন, ‘যখন জয় জানতে পারবে যে তার জন্মাবার কারণে তার মাকে সংসার ছাড়তে হয়েছে। তার মাকে মানুষের মাঝে ছোট করা হয়েছে। তখন জয় তার বাবাকে কতটুকু সম্মান দিবে?’

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি

Leave a Reply