‘লম্পট অব দ্যা ইয়ার’! চতুর্থ শ্রেনীর চার শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির দায়ে অবশেষে আটক শিক্ষক!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর-
এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়! এর আগে বিভিন্ন সময়ে স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থিদের নানা ছুতোয় যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন তিনি। এসব ঘটনায় একে একে সাতবার স্কুল কতৃপক্ষের মাধ্যমে সতর্কিকরন নোটিশ দেয়া হয়েছিলো অভিযুক্ত লম্পট স্কুল শিক্ষককে। কিছুতেই শোধরায়নি লম্পট শিক্ষকের অনৈতিক স্বভাব।

অবশেষে গতকাল শনিবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির পর হরিয়ারঘাট গ্রামের নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে হরিণাকুন্ডু থানায় একটি মামলা করলে ঝিনাইদহে হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে রাতেই ঐ শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার গোলাম কিবরিয়া (৫৮) হরিয়ারঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। লম্পট ঐ শিক্ষককে আটকের পর এলাকাজুড়ে অভিভাবকদের মাঝে প্রশান্তি দেখা গিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির চার শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করলে অভিযোগ হাতে পেয়ে পুলিশ ঐ শিক্ষককে গ্রেফতার করেন ।

হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি কে এম শওকত আলী সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, কুষ্টিয়ার হাতিয়া আবদালপুর গ্রাম থেকে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি কে এম শওকত আলী জানান, হরিয়ারঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া চতুর্থ শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে প্রায় স্কুলের দ্বিতল ভবনের ছাদে নিয়ে উত্তক্ত্য করতো এবং যৌন হেনস্থা করার চেষ্টা করতো। ছাত্রীরা এ সময় প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে মারধরের হুমকি দিত।

ওসি শওকত বলেন, গোলাম কিবরিয়া প্রায়ই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির চার শিক্ষার্থীকে টিফিনের সময় স্কুলের দোতলা ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে ‘অশালীন’ আচরণ করতেন। ছাত্রীরা এর প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তিনি তাদের মারধরের হুমকি দিতেন।

“শনিবার গোলাম কিবরিয়া আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করলে ছাত্রীরা বাড়ি ফিরে ঘটনাটি তাদের অভিভাবকদের জানায়।”

ওসি শওকত বলেন, পরে অভিভাবকরা হরিণাকুণ্ডু থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাদের একজন মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোলাম কিবরিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

ওসি শওকত আরও বলেন, শিক্ষক গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে এর আগে স্কুল কমিটি এমন অভিযোগ পেয়ে সাত বার সতর্ক করে নোটিস দেয়। কিন্তু তারপরও তিনি এমন কাজ থেকে বিরত হননি বলে জানান ওসি।

Leave a Reply