মধ্যরাতে পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে হানা দিয়ে কিশোরীকে গনধর্ষণের অভিযোগ যুবলীগনেতার বিরুদ্ধে!

নোয়াখালী প্রতিনিধি-
পুলিশ পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে (১৬) গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকাজুড়েই। অভিযোগ ওঠা যুবলীগ নেতার নাম মজিবুর রহমান ওরফে শরীফ। তিনি উপজেলার নোয়াখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। কিশোরীর স্বজনদের অভিযোগ এ ঘটনায় ওই যুবলীগনেতাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ মামলার এজাহার থেকে বাদ দিয়েছেন যুবলীগ নেতার নাম।

মামলাসুত্র ও স্থানীয় সূত্রমতে, ঘটনার শিকার ওই কিশোরী তার পরিবারের সঙ্গে নোয়াখোলা ইউনিয়নের এয়াছিন বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন । গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আকস্মিক পুলিশ পরিচয়ে পাঁচ-ছয়জন যুবক ওই বাড়িতে ঢোকেন। তাঁরা ওই ঘর থেকে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যান। পরে ওই কিশোরীকে পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে বাড়ির সামনে ফেলে যান।

মামলার এজাহার সুত্রে প্রকাশ, ঘটনার দিন রাত দেড়টার দিকে আসামিরা মামার বাড়িতে গিয়ে পুলিশ পরিচয়ে দরজা ধাক্কাতে থাকে। এ সময় দরজা খুলে দিলে আসামিরা ঘরে ঢুকে প্রথমেই ওই কিশোরীর নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করে। ভোটার আইডি কার্ড ও জন্মসনদ দেখতে চায়। পরে মোটরসাইকেলে জোর করে উঠিয়ে দূরের একটি বাগানে নিয়ে তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে চোখ বেঁধে বাড়ির কাছে রেখে যায়। মুখ খুললে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ঘটনার পরদিন গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে নোয়াখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ওরফে শরীফসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন কিশোরীর মা।
কিন্তু তিন দিন পর শরীফের নাম বাদ দিয়ে দুজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি রেকর্ড করে পুলিশ। এরপর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। এ অবস্থায় শরীফ ও আসামিরা তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। কিশোরীর পরিবার জানিয়েছে, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতেও তাঁদের বাড়ির সামনে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।

এ ঘটনায় মেয়ে ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান,’শরীফ ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় এলাকায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না।’

কিশোরীর পরিবার থেকে এমন অভিযোগ থাকলেও ধর্ষণের অভিযোগ উড়িয়ে দেন যুবলীগ নেতা মজিবুর রহমান শরীফ। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, তিনি ধর্ষণ বা হুমকি দেওয়া কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। স্থানীয়ভাবে যুবলীগের দুটি পক্ষ রয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় তাঁকে জড়ানোর পেছনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাত থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন।

এদিকে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের একাংশের আহ্বায়ক ও চাটখিল পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ উল্যাহ পাটোয়ারী বলেন, তদন্তে শরীফ যদি অপরাধী প্রমাণ হন, তাঁর বিচার হবে। তিনিও আশংকা প্রকাশ করে বলেন, একটি মহল এই মামলায় শরীফকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতালেরর আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আনোয়ারুল আজিম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আনোয়ার বলেন, ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ নিয়ে কিশোরী ও তার মা ৮ ফেব্রুয়ারি নয়, ১০ ফেব্রুয়ারি থানায় আসেন। ওই দিনই তাঁদের দেওয়া অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগে যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। পরের দিন ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে, তবে এখনও প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে শরীফের নাম এলে তাঁকেও আসামি করা হবে বলে জানান ওসি।

সম্পর্কিত সংবাদ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ধর্ষণ মামলায় প্রেমিক গ্রেফতার 

Leave a Reply