SOMOYERKONTHOSOR

আগামী মে মাসেই জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- আগামী মে মাসে ইসরাইলের ৭০ বছর পূর্তিতে জেরুজালেমে নতুন দূতাবাস চালু করার ঘোষণা দিয়েছে ডোনাল্ড প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র হিদার নুয়ের্ট শুক্রবার এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছেন।

ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলেট জেনারেলের কার্যালয়ে নতুন দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে সেখানে রাষ্ট্রদূত এবং অল্প সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করবেন।

তিনি বলেন, দূতাবাসের বেশিরভাগ কর্মকর্তা-কর্মচারি তেল আবিবে থাকবেন। বর্তমানে জেরুজালেম শহরে আরনোনা নামে একটি ভবনে মার্কিন কন্স্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় রয়েছে।

মার্কিন ওই কর্মকর্তা জানান, মে মাসে যা ঘটবে তা হচ্ছে বর্তমান কন্স্যুলেট ভবনকে আমেরিকার দূতাবাস বলে ঘোষণা করা হবে। অন্য এক মার্কিন কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, পরে জেরুজালেম শহরে নতুন দূতাবাস ভবন নির্মাণ করা হবে।

এদিকে, মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা পিএলও।

হামাসের মুখপাত্র আব্দুল লতিফ আল-কানু গতরাতে (শুক্রবার) এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্কিন এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে গোটা অঞ্চল ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। তিনি আরো বলেন, মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করা হলেও বাস্তবতার কোনো পরিবর্তন ঘটবে না অর্থাৎ বায়তুল মুকাদ্দাস ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবেই থেকে যাবে; দখলদার ইসরাইলের রাজধানী হতে পারবে না।

হামাসের মুখপাত্র তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের ঘটনাকে সব ধরনের আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন।

এদিকে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা- পিএলও’র নির্বাহী কমিটির সচিব সায়েব এরিকাত মার্কিন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপ আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর অনুভূতিতে প্রচণ্ড আঘাত হানবে। তিনি বলেন, বায়তুল মুকাদ্দাস ফিলিস্তিনি জনগণের সম্পদ এবং এটি হবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী; ইসরাইলের নয়।

মধ্যপ্রাচ্যসহ সারাবিশ্বের কঠোর বিরোধিতা উপেক্ষা করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার ঘোষণা করেছে, আগামী মে মাসে তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস বায়তুল মুকাদ্দাস শহরে স্থানান্তর করা হবে।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরই এ সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নেয় তুরস্ক, সৌদি আরব, ইরান, জর্ডানসহ বিশের বেশির ভাগ দেশ। নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষার দাবিতে রাস্তায় নামে ফিলিস্তিনের মুসলিম ও খ্রিস্টানরাও। এ সময় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহত হন অনেকেই।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি