আখাউড়ায় পকেটমারের দৌরাত্ম বৃদ্ধি!

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাক্ষণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: আখাউড়া পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় অজ্ঞান পার্টি ও পকেটমারদের দৌরাত্ম আবার ও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১৫ দিনে অজ্ঞান করাসহ অন্তত ১০-১২ টি পকেটমারের ঘটনায় পথচারিদের সর্বস্ব হাতিয়ে নেয় সংঘবদ্ধ চক্ররা। অজ্ঞান পার্টি ও পকেটমারের দৌরাতœ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় পথচারী ও সাধারণ লোকদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘ দিন ধরে এ অপকর্ম করে আসছে।

Loading ...

জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারী পৌর শহরের তারাগনের প্রবাসী মো. শ্যামল মিয়ার স্ত্রী শাহানা আক্তার ব্যাংক থেকে ১লাখ টাকা তুলে দুতলা মসজিদের সামনে থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সময় কেবা কারা তাকে অজ্ঞান করে ১লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই দিন সকালে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের মোগড়া বাজার এলাকার আবুল হোসেন নামে এক বৃদ্ধ পোষ্ট অফিসের সামনে দাড়িয়ে নারিকেল দেখছেন। এসময় সময় ছোট একটি ছেলের সাথে তাঁর ধাক্কা লাগে। পরে তিনি দেখতে পায় পকেটে থাকা মোবাইল ফোন সেটটি নেই।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারী মাধবপুরের গ্রামের গৃহিনী লিমা আক্তার বলেন, সিএসজি দিয়ে ছেলে ও মেয়ে নিয়ে আত্মিয়র বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আখাউড়ায় আসেন। পৌরসভা কাযালয়ের সামনে এসে সিএনজি থেকে নামেন তারা। যানজট থাকায় দোতলা মসজিদের সামনে কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকে।

এসময় কয়েকটি ছেলে ও দুজন লোক তাদের সাথে দাড়িয়ে থাকে। রিকসায় উঠে ভাড়া দেওয়ার সময় দেখা যায় মেয়ের হাতে থাকা ব্যাগে নগদ ৪ হাজার ও একটি মোবাইল ফোন নেই।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারী উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের মো. ফারুক মিয়া বলেন, খাদেম ফার্মেসী থেকে কিছু ওষধ নিয়ে ফল কেনার টাকা দিতে গিয়ে দেখা যায় তার পকেটে কোন টাকা নেয়। তিনি জানায় ওষধের টাকা দেওয়ার পর তার কাছে ৭শ টাকা ছিল।

এই দিন দুপুরে পোষ্ট অফিসের সামনে এক গৃহিনীর ব্যাগ থেকে টাকা নেওয়ার সময় সন্দেহ জনক ১ কিশোরকে ধরা হয়। পরে তাকে জনতা ধরে উত্তম মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ট্রেন যাত্রী মো. ইকবাল বলেন সন্ধ্যায় যানজটে দীর্ঘক্ষন খাদেম ফার্মেসীর সামনে আটকে পড়ি। এসময় কিছু টাকা খোয়া যায়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারী গৃহিনী শিরিন আক্তার বলেন, পোষ্ট অফিসের সামনে থেকে কিছু সবজি কেনার সময় হঠাৎ দেখি একটি ছেলে ব্যাগ টানছে। কিছু বলার সঙ্গে সঙ্গে সে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ব্যাগের চেইন খোলা দেখে তিনি দেখতে পায় তার টাকা নেই।

খোজ নিয়ে জানা যায়, পৌর শহরের সড়ক বাজার পোষ্ট অফিস - দোতলা মসজিদ এলাকায় হলো ব্যস্ততম সড়ক। এখান থেকে আখাউড়া-সুলতানপুর-ব্রাক্ষণবাড়িয়া, আখাউড়া-চম্পকনগর-আওলিয়া বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে যানবাহন দিয়ে লোকজন যাতায়ত করে থাকেন। মুলত পোষ্ট অফিস - দোতলা মসজিদ ও পৌর কার্যালয় সামনে দিয়ে ট্রেন যাত্রী ,স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন অফিসের লোকজন ও পথচারীরাসহ সাধারণ লোকজন যাতায়ত করে থাকে বেশী । এখানে প্রতিনিয়ত লেগে থাকে যানজট।

ফুটপাতে কেনাকাটসহ দাড়িয়ে ছোট যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে গেলেই বিপত্তি ঘটে। সংঘবদ্ধ চক্ররা অতি কৌশলে ওই স্থানে প্রতিনিয়ত অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের টার্গেট ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারী লোকজন। কৌশলে তারা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন সেটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে এ চক্রের লোকজন একাধীক শিশু দিয়ে এই অপকর্মের কাজ করাচ্ছেন। তবে মাঝে মধ্যে ১০-১২ বছরের শিশু ধরা পড়লেও উত্তম মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

একাধিক ভোক্তভোগীরা জানায় এই স্থানে প্রতিনিয়ত ঘটছে এই অপকর্মের ঘটনা। অপকর্ম নির্মুলে ভোক্তভোগী,পথচারী ,ব্যবসায়ীসহ সাধারণ লোকজন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের শুভদৃষ্টি কামনা করছেন।

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচর্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন তরফদার বলেন, এ বিষয়ে এখন পযর্ন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।