পৃথিবীজুড়ে বাথটাবে ডুবে যত সেলিব্রেটির মৃত্যু ও নেপথ্যে যে রহস্য!

'অত্যধিক মদ্যপানেই বাথটাবে ডুবে শ্রীদেবীর মৃত্যু

সময়ের কণ্ঠস্বর, নিউজ ডেস্কঃ

আমাদের দেশে বাথটাবে ডুবে মৃত্যুর খবর অতীতে কখনও শুনেছেন কি না, মনে করতে পারছেন না কেউই। ফলে বিস্ময়, সন্দেহ বা রহস্যের ধাক্কাটা প্রথমে বেশ জোরালো ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে— এ দেশে না হলেও, জাপান বা আমেরিকার মতো দেশে বাথরুমে দুর্ঘটনায় মৃত্যু, এমনকী বাথটাবে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা একেবারেই বিরল নয়। বিশ্বজুড়ে বাথটবে মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে অনেক। আমেরিকায় গড়ে প্রতিদিন একটি করে বাথটাবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। '

জার্নাল অব জেনারেল অ্যান্ড ফ্যামিলি মেডিসিনা'–এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাপানে বছরে বাথরুমে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৯ হাজারের মতো। এমন বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণ হলো অত্যধিক মদ্যপান বা ড্রাগ নেওয়া।

গত শনিবার রাতে দুবাইয়ে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে আকস্মিকভাবে মারা যান বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শ্রীদেবী। এরপর সোমবার বিকেলে দুবাই পুলিশ জানায়, দুবাইয়ের জুমেইরাহ এমিরেটস টাওয়ার্স নামে যে হোটেলে শ্রীদেবী ছিলেন, তার রুমের বাথটাবের পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে তার। বলিউডে কোনো তারকার বাথটাবে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম। তবে হলিউডে অনেক সেলিব্রিটিরই মৃত্যু হয়েছে বাথরুম তথা বাথটাবে।

হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়েই কি মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর? এমন প্রশ্নের মাঝে উঠে আসে বেশ কিছু বিস্ফোরক তথ্য। গালফ নিউজ এবং খালিজ টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, শ্রীদেবীর রক্তে নাকি অ্যালকোহলও মিলেছে। হৃদ যন্ত্র বিকল হয়েই কি জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর? নাকি, অত্যধিক মদ্যপানের প্রভাবেই অপ্রকিতস্থ অবস্থায় বাথটবে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর। দুবাইয়ের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এবার এমনই বিভিন্ন খবর উঠে আসতে শুরু করেছে।

দুবাইয়ের হোটেলে বাথটাবে ডুবে মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর পোস্ট মর্টেম আর ফরেন্সিক রিপোর্টের ভিত্তিতে তেমনই জানিয়েছে দুবাই পুলিশ। দুবাই পুলিশের এমন রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকেই আলোচনায় এসেছে শ্রীদেবীর মৃত্যু রহস্যের পেছনে 'মদ্যপান' বিষয়ক তথ্যটি।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে শ্রীদেবীর। ফরেনসিক রিপোর্টে প্রকাশ, বাথরুমে ঢোকার পর প্রথমে হৃদরোগে আক্রান্ত হন শ্রীদেবী। এরপর বাথটবে পড়ে যান তিনি। অর্থাত, হৃদ যন্ত্র বিকল হয়ে বাথটবের মধ্যে পড়ে গিয়েই মৃত্যু হয় শ্রীদেবীর।

ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী আরও জানা যাচ্ছে, শ্রীদেবীর রক্তে নাকি অ্যালকোহলের মাত্রাও মিলেছে। গালফ নিউজ এবং খালিজ টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী এই তথ্যই এবার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

সেই ডেথ সার্টিফিকেট..

জাপান আর আমেরিকায় বাথরুমে পড়ে গিয়ে বা বাথটাবে ডুবে মৃত্যুর হিসেব পাওয়া যাচ্ছে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে। জাপানের জার্নাল অব জেনারেল অ্যান্ড ফ্যামিলি মেডিসিন-এর রিপোর্ট (মার্চ, ২০১৭) অনুযায়ী, সে দেশে বছরে ১৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বাথরুমের মধ্যে দুর্ঘটনায়।

২০১৬-তে জাপানের কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স এজেন্সি তাদের রিপোর্টে জানায়, তার আগের ১০ বছরে বাথটাবে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা সে দেশে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাপানের কনজিউমার অ্যাফেয়ার্স এজেন্সি-র রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের দুর্ঘটনায় মৃতদের ৯০ শতাংশেরই বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।

ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, জাপানে বাথটাবের বেশি গভীরতা এবং ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়েও উষ্ণ জলে স্নানের অভ্যাস এই সমস্ত দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পিছনে অন্যতম বড় কারণ।

বাথটাবে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও বেশ উল্লেখযোগ্য। ২০০৬-এর ইউএস ফেডেরাল মর্টালিটি ডেটা অনুযায়ী, বাথটাবে ডুবে বা বাথটাবের মধ্যে পড়ে গিয়ে প্রতিদিন অন্তত একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়।

২০০৬-এর ইউএস ফেডেরাল মর্টালিটি ডেটা অনুযায়ী, বেশির ভাগ মার্কিন নাগরিকের বাথরুমে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর জন্য দায়ী তাদের অত্যধিক মাদক সেবনের অভ্যাস।

২০১৫-তে ‘দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ইন আটলান্টা’র রিপোর্ট অনুযায়ী, বাথরুমে দুর্ঘটনায় পুরুষদের চেয়ে মহিলারাই বেশি আহত হন। মোট ঘটনার প্রায় ৭২% মেয়েদের ক্ষেত্রে ঘটেছে।

 

বিশ্বজুড়ে সেলিব্রেটিদের বাথটবে মৃত্যুর যত ঘটনা

বিশ্বজুড়ে বাথটবে মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে অনেক। আমেরিকায় গড়ে প্রতিদিন একটি করে বাথটাবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। 'জার্নাল অব জেনারেল অ্যান্ড ফ্যামিলি মেডিসিনা'–এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাপানে বছরে বাথরুমে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৯ হাজারের মতো। এমন বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণ হলো অত্যধিক মদ্যপান বা ড্রাগ নেওয়া।

বাথটাব বা বাথরুমে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে এমন হলিউড তারকার সংখ্যাও অনেক। 'কিল মি ডেডলি'র তারকা অ্যালবার্ট ডেকার, গায়ক জিম মরিসন, অভিনেত্রী জুডি গারল্যান্ডের নামও রয়েছে এই তালিকায়। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম হলো 'রক অ্যান্ড রোল'–এর কিংবদন্তী গায়ক এলভিস প্রেসলি। বাথরুমে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাকে। প্রথমে তার মৃত্যুর কারণ হৃদরোগ বলা হলেও পরে জানা যায়, আসলে ১০টি নিষিদ্ধ ওষুধ বেশি সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছিল।

কাজেই মাত্র দেড় ফুট গভীরতার বাথটবে পড়ে মৃত্যু সম্ভব কিনা- শ্রীদেবীর মৃত্যুর পর এ প্রশ্ন উঠলেও দুনিয়াজুড়েই এমন মৃত্যুর অনেক নজির রয়েছে। আমেরিকায় অনেক শিশুর মৃত্যু হয় বাথটাবের কারণে। ফলে এমন মৃত্যু রোখার উপায় খুঁজছেন মার্কিনিরা।

তাই বাথটাব বা বাথরুমে মৃত্যু অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। বরং বিশ্বে এই ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কাছেও এমন মৃত্যু রোখা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাথটাবে মৃত্যুর তালিকায় রয়েছেন বিখ্যাত গায়ক জিম মরিসনও। তার মৃত্যুর ঘটনাটা খুবই অদ্ভুত। প্যারিসের একটি অ্যাপার্টমেন্টের বাথটাবে জিম ও তার বান্ধবীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। চিকিৎসকরা জিমের মরদেহ পরীক্ষা করে অস্বাভাবিক কিছু খুঁজে পাননি। সে কারণে ময়নাতদন্ত করা হয়নি তার।