SOMOYERKONTHOSOR

পাগলিটা মা হয়েছিলেন! বাবা হয়নি কেওই! অতঃপর অসহায় শিশুটি পেলো বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা

সময়ের কণ্ঠস্বর, চাপাইনবাগঞ্জ প্রতিনিধি
-কে ছিলো সদ্য নবাগত শিশুর বাবা? কার লালসার শিকার এই অসহায় মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ? এমন নানা প্রশ্ন ছিলো “টক অব দ্যা টাউন”।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী। এর মধ্যে কারও পৈশাচিকতার শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। এরপর প্রসববেদনা উঠলে গত বোরবার রাতে স্থানীয়রা তাকে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে ভর্তি করে। সোমবার সকাল ৭টায় তিনি এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান প্রসব করেন।

মানসিক ভারসাম্যহীন ও তার নবাগত শিশু সন্তানের ছবি ফেসবুকে ভাইরালহয়ে পড়ে মুহুর্তেই । এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ দেশ বিদেশে আলোচনা হয়েছে বিস্তর। তোলপাড় চলেছে পুরো উপজেলায়। মানসিক ভারসাম্যহীন এই নারী কোন লম্পটের লালসার শিকার হয়েছেন তার ‘খোজেই’ ছিলেন অনেকেই। অনেকেই আবার অদৃশ্য সেই পিশাচকে ধিক্কার জানিয়ে সেরেছেন দায়।

স্থানীয়দের ধারনা কোন লম্পট তাকে হয়তো জোর পূর্বক ধর্ষন করেছে। এতে সে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে। বেশকিছুদিন আগে থেকেই অসহায় এই মেয়েটির অন্তঃসত্বা হবার দৃশ্য স্থানীয়দের চোখে ধরা পড়ে তখন থেকেই শহরে শুরু হয় জল্পনা কল্পনা আর আলোচনা।

স্থানীয় লোকজন জানান, অনেক দিন ধরেই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান নাম-পরিচয়হীন ওই পাগলিনী নারী। যাকে সবাই ‘পাগলী’ নামেই ডাকে। কেউ জানে না তার কোন নাম ঠিকানা। শহরে যত্রতত্র তার চলাচল। যেখানে রাত সেখানেই সে কাত(ঘুমিয়ে)পড়ে। এভাবেই রাতের আধারে কারো বিকৃত লালসার শিকার হয়েছেন সেই নারী ।

শেষ অবধি নবজাতকটির পিতৃ পরিচয় পাওয়া যায়নি। ভারসাম্যহীন এই নারীর ইজ্জত নষ্ট করায় অনেকেই লম্পটকে ধিক্কার জানিয়েছেন এবং এ ঘটনায় অসুস্থ মস্তিস্কের পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শিশুটির দায় নেবার কথা ভেবেছেন খুব অল্প মানুষই।

এ ঘটনা জানার পর শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলাম ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক মা ও নবজাতকের সার্বিক দায়িত্ব নেন।
অসহায় ফুটফুটে এই নবজাতকের ভবিষ্যৎ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশের পর শিশুটির দায়িত্ব নেবার ইচ্ছে প্রকাশ করেন এক দম্পত্তি।
পরবর্তিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নবজাতককে উপজেলার শাহবাজপুরের একটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে, ইউএনও শফিকুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, “মানসিক প্রতিবন্ধী নারী ও তার নবজাতকের জন্য আপতত উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নে একটি পরিবারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শিশু ও মায়ের সার্বিক খরচ আমি বহন করব। তাছাড়া আগামী কিছুদিনের মধ্যে একটু জমিতে তাদের জন্য স্থায়ী ঘর নির্মাণ করে দেব।”

তিনি জানান, স্বাধীনতার মাসে জন্ম নেয়ার জন্য নবজাতকের নাম ‘মুক্তি’ রাখা হয়েছে এবং শিগগির তার আকিকা অনুষ্ঠান করা হবে।
বাচ্চার মা ও বাচ্চাটি সুস্থ আছে বলে নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আজিজুল হক।