SOMOYERKONTHOSOR

‘টাকার জন্য চাপ দিলে আত্মহত্যা করবো’! পাওনাদারকে ম্যাসেজ দিয়েই ট্রেনে মাথা দিলেন কোম্পানির মালিক

রাজধানীতে গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা শোধ করতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যা করেছেন একটি মাল্টিপারপাস কোম্পানির মালিক।
🔴🔵
স্টাফ রিপোর্টার, সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- কয়েককোটি টাকার ঋনের জালে জর্জরিত ছিলেন ইঞ্জিনওর ফারুক আহমেদ। বেশকিছুদিন আগে ৩৬০ এঙ্গেল নামে একটি মাল্টিপারপাস কোম্পানি খুলেছিলেন তিনি। এরপর বিভিন্নভাবে ব্যবসায় লোকসান খেয়ে ভয়ানক হিমশিম খেতে শুরু করেন তিনি।

পাওনাদাররা ফারুককে বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছিল। এতে তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পাওনাদারদের মধ্য থেকে মিয়া সোহেল নামে একজন ব্যবসায়ীর মোবাইলে আত্মহত্যার কথা জানিয়ে ম্যাসেজ পাঠান রোববার। ক্ষুদে বার্তায় তিনি লেখেন, ‘যদি আমাকে অতিরিক্ত চাপ দেয়া হয় তাহলে আমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হব।’

এরপরই বিকেলে গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ৩৬০ এঙ্গেলমাল্টিপারপাস কোম্পানির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক (৫৫) ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। রোববার বিকালে রাজধানীর মগবাজার এলাকায় চলন্ত ট্রেনে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

রেলওয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

ইঞ্জিনিয়ার ফারুকের স্ত্রী পলি বেগম আত্মহত্যার সত্যতা নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বন্দরের ২৩নং ওয়ার্ডের ৫১২/৩ উইলসন রোড এলাকার মৃত রকিব হোসেনের ছেলে। তিনি অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠান খুলে গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নেন। কিন্তু ব্যবসায় লোকসান হবার কারনে তিনি পাওনাদারদের ভয়ে কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন। গত এক সপ্তাহ আগে তিনি এক গ্রাহকের মামলায় গ্রেফতার হন।

এলাকাবাসী জানান, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহমেদ বেশ কিছুদিন ধরে নিজ বাড়িতে ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেল নামে অর্থলগ্নি একটি প্রতিষ্ঠান খুলে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। গ্রাহকদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিয়া সোহেল প্রায় এক কোটি ৩৭ লাখ টাকা ওই প্রতিষ্ঠানে লগ্নি দেন। একপর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক প্রতিষ্ঠানের সব অর্থ আত্মসাৎ করেন।

গ্রাহকরা টাকার জন্য ফারুককে চাপ দিলে তিনি নানা টালবাহানা করেন। সম্প্রতি বশির নামে এক গ্রাহক তার বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির মামলা করেন। পুলিশ ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করে। জামিনে বেরিয়ে এসে তিনি আত্মগোপন করেন। আত্মগোপনে গিয়েও তিনি গ্রাহকদের চাপমুক্ত হতে পারেননি। অবশেষে বেছে নিলেন মৃত্যুর পথ ।