একরাম হত্যা মামলায় ফাঁসি হলো যাদের

আবদুল্লাহ রিয়েল: ফুলগাজী উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি একরামুল হক একরাম হত্যাকান্ডে জড়িত থাকায় ৩৯ আসামীকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকালে জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্র জানায়, মামলায় স্বাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীর কবীর আদেল, জাহিদ হোসেন চৌধুরী, আবিদুল ইসলাম আবিদ, এমরান হোসেন রাসেল, জিয়াউর রহমান বাপ্পি, আজমীর হোসেন রায়হান, মো. শাহাজালাল উদ্দিন শিপন, কাজী শাহনান মাহমুদ, নুর উদ্দিন মিয়া, আবদুল কাইয়ুম, সাজ্জাদুল ইসলাম পাটোয়ারী সিফাত, জাহিদুল ইসলাম সৈকত, মো. আবদুল্লাহিল মাহমুদ শিবলু, আবু বক্কর ছিদ্দিক, আরমান হোসেন কাউসার, চৌধুরী মোহাম্মদ নাফিজ উদ্দিন অনিক, জাহিদুল ইসলাম, ফেরদৌস মাহমুদ খান হীরা, সজিব, পাংকু আরিফ, ইসমাইল হোসেন চুট্টু, জসিম উদ্দিন নয়ন, মামুন, মো. সোহান চৌধুরী, মানিক, কফিল উদ্দিন মাহমুদ আবির, টিটু, নিজাম উদ্দিন আবু, রাহাত মো. এরফান, টিপু, নাতি আরিফ, রাশেদুল ইসলাম রাজু, রুবেল, বাবলু, শফিকুর রহমান ময়না, একরাম হোসেন, মহিউদ্দিন আনিস, মোসলে উদ্দিন আসিফকে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। অন্যদিকে রুটি সোহেল নামে একজন র‌্যাব’র সাথে বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হন।

ফেনী জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ এ মামলায় ৩৯ আসামীকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমীস্থ বিলাসী সিনেমা হলের সামনে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সভাপতি একরামুল হক একরামকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা করে।

পরে তাকে বহনকারী গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। ঘটনায় একই দিন রাতে নিহত একরামের বড় ভাই বাদী হলে বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন মিনারকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় একই বছরের ২৮ আগষ্ট পুলিশ ৫৬ জনকে আসামী করে চার্জশীচ দাখিল করে।

মঙ্গলবার জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। দুপুরে ফেনী কারাগার থেকে ৩৬ জন আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এ মামলার ১৯ জন আসামি পলাতক। এদের মধ্যে ১০ জন জামিনে এসে পালিয়ে গেছেন।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এ মামলায় জামিন পাওয়া আসামিদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ আমিন উল হক।

হত্যাকাণ্ডের ১০০ দিনের মাথায় ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। একই বছর ১২ নভেম্বর অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত।

২০১৪ সালের ২০ মে সকালে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় একরামুল হক একরামকে ফুলগাজী যাওয়ার পথে কুপিয়ে, গুলি করে এবং পরে পুড়িয়ে হত্যা করেন আসামিরা। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ায় একরামের লাশ তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ কংকাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেখানে একরামের লাশ শনাক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় একরামের ভাই রেজাউল হক জসিম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় ৫৬ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন।

Leave a Reply