ভ্রমনই কাল হলো পিয়াসের

মশিউর দিপু, বরিশাল থেকে- নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পিয়াস ছিল প্রবল ভ্রমন পিপাসু। তিনি গোপালগঞ্জ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

পিয়াসের এক বন্ধু জানিয়েছেন, পিয়াস সদা হাস্যজ্জ্বল, প্রিয় ভাষী ও প্রবল ভ্রমন পিপাসু ছিলো। সে সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপাশি সে সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলো। গত ৫ মার্চ পিয়াসের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হওয়ায় নেপালে তার বন্ধুদের নিকট বেড়াতে গিয়ে এ দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে তিনি জানান। এদিকে পিয়াসের অকাল প্রয়াণ কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার স্বজনরা।

পিয়াস রায় বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের মধুকাঠি গ্রামের বাসিন্দা সুখেন্দু বিকাশ রায়ের ছেলে। তারা বরিশাল নগরের নতুনবাজারস্থ মথুরানাথাত পাবলিক স্কুল সংলগ্ন বহুতল একটি ভবনের চতুর্থতলার একটি ফ্লাটে বসবাস করেন।

বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার চন্দ্রকান্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মা পূর্ণা রানি মিস্ত্রি বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ দম্পত্তির এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে পিয়াস রায় বড়। তার বোনের নাম শুভ্রা রায়।

পিয়াস বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করে গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়।

পিয়াসের মা পূর্ণা রানি মিস্ত্রি বলেন, রোববার (১১ মার্চ) রাতে বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পিয়াস। সোমবার (১২ মার্চ) সকালে ঢাকা পৌঁছে তার কাকার বাসায় গিয়ে ওঠে। এরপর নেপাল যাওয়ার জন্য কাকাতো ভাইয়ের বাড়ি থেকে ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে যায় পিয়াস।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সর্বশেষ ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়। তখন পিয়াস জানিয়েছিলেন তিনি কিছুক্ষণের মধ্যে প্লেনে উঠবেন। এরপর আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কাঠমান্ডুতে এ দুর্ঘটনার পর থেকে আর পিয়াসের কোনো খোঁজ পাননি। শুনেছেন তিনি মারা গেছেন।

পিয়াসের ছোট বোন শুভ্রা রায় বলেন, পিয়াস ইউএস বাংলার উড়ো জাহাজের যাত্রী ছিলেন, পিয়াস দেশ বিদেশ ভ্রমন করতে ভালোবাসতো। ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। নেপালে তার বন্ধু ছিলো। তাদের সাথে সময় কাটাতে সে ৫ দিনের জন্য নেপাল যাচ্ছিলো।

সময়ের কণ্ঠস্বর/রবি

Leave a Reply