অভিজ্ঞতা বাজারের জিনিস না: মাশরাফি

স্পোর্টস আপডেট ডেস্ক- শ্রীলংকার বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে জিততে হলে শেষের চাপটা জিততো হতো টাইগারদের। শেষ চার বলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে করতে হতো ১২ রান। মাহমুদুল্লাহ সেই রান ১ বল হাতে রেখেই পৌঁছে গেলেন। ২ উইকেটের জয়ে নিশ্চিত করলেন ফাইনালের টিকিট।

এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইতিহাস গড়া জয়ে ৩৫ বলে ৭২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিকুর রহিম। সেই লঙ্কানদের বিপক্ষেই ১৮ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে নিধাস ট্রফির ফাইনালে টেনে নিলেন মাহমুদউল্লাহ। আর অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের এমন কীর্তি দেখে ব্যতিক্রমী উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাশরাফি লিখেছেন, অভিজ্ঞতা বাজারের জিনিস না।

আসলে মাশরাফির এই স্ট্যাটাসে আবেগের সঙ্গে একটু ক্ষোভও ছুঁয়ে আছে। এই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই আগের সফরে মাহমুদউল্লাহকেই দল থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। তখন তাকে দলে ফেরাতে বিসিবির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুদৃঢ় অবস্থান নেন মাশরাফি। টাইগার অধিনায়ক যেন সেটিই মনে করিয়ে দিলেন।

সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে হতাশায় আচ্ছন্ন বাংলাদেশ দল যখন কলম্বো পৌঁছায়, মিরপুরে একাডেমি মাঠে বসে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা বলেছিলেন, এই দলে এমনকিছু খেলোয়াড় আছে যারা ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। একটা জয়ই পাল্টে দিতে পারে সব।

শ্রীলংকার দেওয়া ১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর তামিম-মুশফিকের ৬৪ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। কিন্তু তামিম ৪২ বলে ৫০ ও মুশফিক ২৫ বলে ২৮ করে ফিরে যাওয়ায় আবার চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

পরে মাহমুদুল্লাহ-সাকিবের ব্যাটে বাংলাদেশ জয়ের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সাকিব ৯ বলে ৭ রান করে ফিরে গেলে মাহমুদুল্লাহর ওপরে দায়িত্ব পড়ে। সেই চাপ দারুণ সামলেছেন বাংলাদেশ দলের সহ অধিনায়ক। অভিজ্ঞতা যে অনেক বড়, তাও দেখালেন বাংলাদেশের এ পরিণত ও অভিজ্ঞ যোদ্ধা। খেলেছেন ১৮ বলে ৪৩ রানের হার না মানা এক ইনিংস।

নাটকীয় এই ম্যাচের শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। ম্যাচের দ্বিতীয় বলে হঠাৎই রানআউট হয়ে গেলেন মুস্তাফিজুর রহমান। স্ট্রাইকে থাকার কথা মাহমুদুউল্লাহর। কিন্তু আম্পায়ার তাকে স্ট্রাইকে দেবেন না। এ নিয়ে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান মাহমুদুউল্লাহ আর রুবেলকে উঠে আসতে বললেন।

আম্পায়ার আর ম্যাচ রেফারিসহ অন্য কর্মকর্তারা থামানোর চেষ্টা করছেন তাকে। অবশেষে রিয়াদ নিজের উপর আস্থা রেখে ম্যাচ শেষ করতে মাঠেই থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন। স্ট্রাইকে থাকলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদই।

শেষ চার বলে প্রয়োজন ১২ রান। তৃতীয় বলেই মাহমুদউল্লাহ মারলেন বাউন্ডারি। চতুর্থ বলে নিলেন দুই রান। শেষ দুই বলে প্রয়োজন আর ৬ রান। ছক্কা মারলেই হয়ে যায়। ঠাণ্ডা মাথায় যেন খুন করলেন তিনি বোলার ইসুরু আদানাকে। পায়ের ওপর ছিল বলটি। দারুণ এক ফ্লিক করলেন তিনি। বল গিয়ে আছড়ে পড়লো গ্যালারিতে। ছক্কা মেরেই বাংলাদেশকে ২ উইকেটের ব্যবধানে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

রবি