রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই

স্পোর্টস ডেস্কঃদৃশ্য এক, মাঠে মাথা নিচু করে বসে সুনীল ছেত্রী। আই লিগের অভিষেকেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন তাঁরা। আইএসএল এও তেমনটাই হতে পারতেন। গোটা টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ফাইনালে পৌঁছেছিল বেঙ্গালুরু এফসি। কিন্তু তীরে এসে তরি ডুবল।

দৃশ্য দুই, ভিআইপি আসন ছেড়ে লাফিয়ে উঠে হাততালি দিচ্ছেন অভিষেক বচ্চন। তারপরই নিচে নেমে এলেন। নিজের দলের ফুটবলারদের সঙ্গে সেলিব্রেশনে মাতলেন। মাঠে তখন নাচতে শুরু করে দিয়েছেন জেজে-মেলসনরা। হবে নাই বা কেন। ২০১৫ সালের পর ফের ইন্ডিয়ান সুপার লিগে চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই।

চলতি আইএসএল অভিনব এক ফাইনালের সাক্ষী থাকল। প্রথমবার লিগ তালিকার শীর্ষে থাকা দুটি দল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল। আর সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচের সাক্ষী থাকতে কান্তিরাভা স্টেডিয়াম ভরিয়ে দিয়েছিলেন দর্শকরা। চলতি আইএসএল নিয়ে প্রথম থেকে ফুটবলপ্রেমীদের উতসাহ অন্যান্যবারের তুলনায় এবার অনেকটাই কম ছিল। অনেক খেলাতেই গ্যালারি ছিল ফাঁকাই।

কিন্তু শনিবার ফাইনালের ছবিটা ছিল এক্কেবারে অন্যরকম। বেঙ্গালুরুকে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেখতেই নীল জার্সি পরে এসেছিলেন সমর্থকরা। তবে ঘরের মাঠেই তাদের বধ করলেন জন গ্রেগরির ছেলেরা।

ম্যাচের শুরুতেই গোল করে সমর্থকদের আশা দ্বিগুণ করে দিয়েছিলেন সুনীল ছেত্রী। কিন্তু মেলসনকে রোখা গেল না। জোড়া গোল করে প্রথমার্ধেই চেন্নাইকে এগিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে অগাস্তোর গোলে আরও খানিকটা স্বস্তি পেল চেন্নাই শিবির।

কিন্তু ম্যাচ শেষের ঠিক আগে আরও একবার জ্বলে উঠেছিল বেঙ্গালুরু। কুমার সিংয়ের বাড়ানো বল থেকে ইনজুরি টাইমে গোল করেন নিকোলাস ফেডোর। কিন্তু ততক্ষণে দ্বিতীয়বার আইএসএল ট্রফিতে খোদাই হয়ে গিয়েছিল অভিষেক বচ্চনের দলের নাম। কলকাতার মতোই এখন তাঁর দলের কাছেও জোড়া ট্রফি। ম্যাচের সেরা উচ্ছ্বসিত মেলসন বলছেন, “ফাইনালে গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার আনন্দটা একদম অন্যরকম।” আজ রাতটা তাই শুধুই সেলিব্রেশনের।

সময়ের কণ্ঠস্বর/ফয়সাল