'লজ্জা থাকলে দুর্নীতিবাজ নেত্রীর জন্য বিএনপি আন্দোলন করত না: হানিফ

সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্ক:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে জনগণের অংশগ্রহণে, সে নির্বাচনে কোন দল অংশ নেবে আর কোন দল অংশ নেবে না, তা বিবেচ্য বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

একই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, লজ্জা থাকলে আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ নেত্রীর মুক্তির জন্য বিএনপি মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতারা আন্দোলনের কথা বলতেন না। এছাড়া বিএনপির কাছে গণতন্ত্রের অর্থ শুধু নাশকতা আর সহিংসতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  হানিফ বলেন, '১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর যে ভাষণ ছিল সেই ভাষণের মধ্যেই ছিল আমাদের স্বাধীনতার মূল ঘোষণা। সেই ভাষণে ছিল পাকিস্তানিদের আমাদের ওপর অত্যাচারের চিত্র। কিভাবে পাকিস্তানিরা আমাদেরকে শাসন-শোষণ করেছে তার চিত্র। সেই ভাষণেই ছিল পাকিস্তানিদের ওপর আমাদের যুদ্ধে নামার আহবান। এরপরেই আমরা ছাপিয়ে পড়ি, নিজেদের সর্বস্ব নিয়ে।'

মাহাবুবুল আলম হানিফ বিএনপি নেতাদেরকে বলেন, 'আপনাদের লজ্জিত হওয়া দরকার কারণ আপনাদের দলের প্রধান এতিমের টাকা মেরে খেয়ে জেলে বসে তার শাস্তি ভোগ করছেন। আরো লজ্জার বিষয় হল আপনারা দলের চেয়ারপারসনের অনুপস্থিতে এক সন্ত্রাসীক (তারেক জিয়াকে) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব দিয়েছেন। যিনি খুন খারাবি, দুর্নীতি ছাড়া আর কিছু চিন্তা করতে পারেন না।’

অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপিল শুনানিতে মওদুদ আহমদের মতো ‘বেইমানদেরকে’ বাদ দিয়ে ‘ভালো’ আইনজীবী নিয়োগ করতে পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান। এই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে লড়েছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নেতারা। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলেও যারা লড়ছেন, তারা বিচারিক আদালতেও কথা বলেছেন।

নির্ধারিত সময়ে বর্তমান সরকারের অধীনেই সংবিধান মেনে নির্বাচন হবে জানিয়ে নাসিম বলেন, ‘আর এই নির্বাচন কোন দলের জন্য অপেক্ষা করবে না।’

‘কোন দল নির্বাচনে আসবে আর কোন দল আসবে না সেটা সরকারের এখতিয়ার নয়, সেটি দেখবে নির্বাচন কমিশন।’

সময়ের কণ্ঠস্বর/ফয়সাল